ধর্ম


তুরস্কে রমজান যেমন হয়!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৮ মার্চ ২০২৩, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

তুরস্কে রমজান যেমন হয়!

তুরস্কের রমজান মাস ,পৃথিবীর অন্যান্য জায়গা থেকে আলাদা।  মুসলিম প্রধান এই দেশে রমজান শুরু হয় উৎসবমুখর ভাবে।  রোজা আসার আগেই রঙ বেরঙের ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে যায় সর্বত্র। শিশুদের জন্য সবচেয়ে সুন্দর ব্যবস্থা থাকে তুরস্কে। কোন শিশু প্রথমবার রোজা রাখলে তার জন্য আয়োজন করা হয় বিশেষ অনুষ্ঠান। সেখানে দাদা দাদি নানা নানিরা বিভিন্ন উপহার দিয়ে থাকেন। এছাড়া উৎসাহ দেন বয়স্করা সবাই, তাতে শিশুটির প্রথমবার রোজা রাখা হয় অত্যন্ত আনন্দময়।  সরকারী হিসাব অনুযায়ী তুরস্কের শতকরা  নিরানব্বই ভাগ মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী।  বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, জনসংখ্যার বেশিরভাগ অংশই রোজা  থাকেন  রমজান মাসে। 

অটোমান সম্রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী এই দেশের আরেক নাম মসজিদের দেশ। ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী তুরস্কের জনসংখ্যা ৮৫ মিলিয়ন।  এই পরিমান মানুষের জন্য দেশটিতে  মসজিদ আছে ,পঁচাশি হাজার থেকেও বেশি।  প্রতিটি এলাকা বা মহল্লায় রয়েছে উচু উচু মিনার সমৃদ্ধ এক বা একাধিক মসজিদ। এর মাঝে অনেকগুলো মসজিদ বিশ্ব বিখ্যাত। প্রতিবছর রমজান আসলে তুরস্কের মসজিদ গুলো  নতুন ভাবে সাজানো হয়। মিনার গুলোতে করা হয় আলোক সজ্জা। তাতে শোভা পায় বিভিন্ন আরবী বাণী, হাদিস ও কোরআনের আয়াত। পাঁচওয়াক্ত নামাজের সময় মুসল্লিদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ থাকে মসজিদ গুলো।উসমানীয় সম্রাজ্যের ঐতিহ্য বজায় রেখে তুরস্কের বিভিন্ন জায়গায় এখনো ইফতারের সংকেত দেয়া হয় তোপ ধ্বনির মাধ্যমে। 

দেশটিতে ইফতারের আয়োজন হয়ে থাকে বেশ জমজমাট। অন্যান্য অঞ্চলের মতো তুরস্কেও ইফতার শুরু হয় খেজুর দিয়ে। এরপর আসে বিভিন্ন ধরণের  ফলমূল, মধু এবং মিষ্টি। এছাড়া জয়তুন, পনির সহ বিভিন্ন লোভনীয় আইটেম শোভা পায় তাদের টেবিলে। এছাড়া ইফতার আইটেম হিসাবে তুরস্কে পাইড নামের একটি খাবার বিখ্যাত। এটি মূলত এক ধরণের বিশাল আকারের রুটি। যা যুগ যুগ ধরে তুরস্কবাসী মানুষের  ইফতারে অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে।  এটিকে রমজান পিঠাও বলে থাকে তারা। ইফতারের আগে বিভিন্ন দোকানে লাইন ধরে এই রুটি কিনে থাকে সবাই। এছাড়া বাসায় বানানো হয় 'পাস্তিরমাহ' নামে  গরুর মাংসের অন্য একটি আইটেম। 

 উপমহাদেশের  মতো ইফতারে ভাজাপোড়া খাবারের প্রচলন নেই তুরস্কে। অন্যদিকে ইফতারের পর আলাদাভাবে রাতের খাবারেরও অভ্যাস নেই তাদের। এক বসাতেই ইফতার এবং রাতের খাবার খেয়ে নামাজ পড়তে যায় তারা। 

রমজান মাসে তুরস্কের সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য হচ্ছে রাস্তায় ইফতারের আয়োজন। এলাকার খোলা রাস্তায় ইফতারের আয়োজন করে তারা। রাস্তাতেই পরিবার পরিজন সবাইকে নিয়ে ইফতার করতে আসে তুরস্কবাসী। ধনী গরীব কোন ভেদাভেদ থাকেনা এখানে। সবাই মিলে খোলা রাস্তায় পাশাপাশি বসে আনন্দময় পরিবেশে ইফতার সারে। 

এসব জায়গায় বানানো থাকে বিভিন্ন ধরণের স্টেজ। ইফতারের পর স্টেজে আয়োজন করা হয় হামদ নাত এবং ইসলামিক সংগীতের আসর। তুরস্কে সেহরির সময়ও রেস্তোরাঁগুলো খোলা রাখা হয়। তবে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রেস্তোরাঁ এবং খাবারের দোকান বন্ধ থাকে। দুপুরের পর থেকেই শুরু হয় ইফতারের আয়োজন। সব মিলিয়ে অত্যন্ত উৎসব এবং আনন্দমুখর পরিবেশে রমজান মাস পালিত হয় তুরস্কে। সেজন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা এক মাসের ছুটি নিয়ে রমজান কাটাতে আসেন তুরস্কে।গত কিছুদিন আগে দেশটিতে মারাত্মক ভুমিকম্পের কারণে বিপর্যয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ।  ধ্বংস হয়ে গেছে অসংখ্য স্থাপনা। 

ফলে এবারের রমজান দেশটির অনেক মানুষের জন্যই কঠিন এক পরীক্ষা হয়ে এসেছে। ভুমিকম্পের কারণে এবার তুরস্কের অনেক অঞ্চলেই হয়তো দেখা যাবে না রমজানের চিরায়ত সেই উৎসবমুখর পরিবেশ। 





জনপ্রিয়


ধর্ম থেকে আরও পড়ুন

রোজা রেখে যে ১০টি কাজ আমাদের বর্জন করা উচিত

রমজান মাস কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং নৈতিক শিক্ষার মাস। ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহভীতি (তাকওয়া) অর্জন করা, যা কোরআনেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—

মাহে রমজান: শুধু রোজা নয়, এটি চরিত্র গঠনের মাস- আমরা কি চরিত্রও শুদ্ধ করছি?

রমজান কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা বর্জনের মাস নয়। এটি আত্মসংযম, ধৈর্য, সহানুভূতি এবং সামাজিক দায়বোধ বৃদ্ধির মাস। ইসলামের শিক্ষায় রোজা কেবল খাদ্য-বর্জনের জন্য নয়, বরং মানুষের চরিত্র গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

ইতিহাসে দ্বিতীয় রমজান: শাকহাবের প্রান্তরে মঙ্গোলীয় ঝঞ্ঝা প্রতিরোধ

৯১ হিজরির ১ রমজানে আন্দালুস বিজয়ের যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল, তার প্রায় ছয় শতক পর ৭০২ হিজরির ২ রমজানে সিরিয়ার মাটিতে রচিত হয় আরেক মহাকাব্যিক অধ্যায়। এদিন ‘শাকহাবের যুদ্ধ’ (১৩০৩ খ্রি.) কেবল একটি সামরিক সংঘর্ষ ছিল না; এটি ছিল মুসলিম সভ্যতার টিকে থাকার প্রশ্নে এক চূড়ান্ত লড়াই।

ইফতার সামনে নিয়ে যে দোয়াগুলো পড়বেন

সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতার রোজাদারের জন্য এক বিশেষ আনন্দের মুহূর্ত। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, “রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ একটি যখন সে ইফতার করে, আরেকটি যখন সে তার প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।” (তিরমিজি, হাদিস: ৭৬৬)