ধর্ম


বাংলাদেশের যে মসজিদে আছে মহানবী (সা:) এর পায়ের ছাপ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১০ এপ্রিল ২০২৩, ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার

বাংলাদেশের যে মসজিদে আছে মহানবী (সা:) এর পায়ের ছাপ
চট্টগ্রামের "কদম মোবারক শাহী জামে মসজিদে,পাশাপাশি রাখা আছে দুটো পায়ের ছাপ। যার একটির পাশে বাংলায় লেখা রয়েছে: ‘সরওয়ারে কায়েনাত হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম–এর কদম মোবারক’।অপরটির পাশেও একই ভাবে লেখা রয়েছে : ‘হজরত গাউসুল আজম আব্দুল কাদের জিলানী (রা.) এর কদম মোবারক’। কদমের ছাপদ্বয় মুঘল আমল থেকেই এখানে এভাবে সংরক্ষিত আছে।

বারো আউলিয়ার পুণ্যভূমি খ্যাত অঞ্চল চট্টগ্রাম। প্রাচীন কাল থেকেই অসংখ্য মুসলিম স্থাপনা গড়ে উঠেছে সেখানে। তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত "কদম মোবারক শাহী জামে মসজিদ’।

মগ এবং পর্তুগজিদের হাত থেকে চট্টগ্রামকে মুক্ত করেছিলেন মোঘল শাসকরা। সেই সময়ে বিজয়ের নিদর্শন স্বরুপ তারা গড়ে তুলেছিল অসংখ্য মসজিদ। 

হযরত মুহম্মদ (সা.) এর পায়ের ছাপ থাকা এই উপাসনালয়টি নির্মানে ভূমিকা রেখেছিলেন, মুহাম্মদ ইয়াসিন নামে স্থানীয় এক ফৌজদার। তার উদ্যোগে ১৭১৯ থেকে ১৭২৩ সাল পর্যন্ত, দীর্ঘ চার বছরে মসজিদের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়।

সেই সময়ে ৫ সারিতে দাড়িয়ে মাত্র ১০০ জন মুসল্লি, একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারতেন। কিন্তু ঐতিহাসিক এবং পবিত্রতার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে মসজিদ সম্প্রসারন করা হয়েছে। 
বর্তমানে এখানে একসাথে ১ হাজার জন সালাত আদায় করতে পারে।

মোট ৩টি কক্ষ নিয়ে স্থাপনাটি গড়ে উঠেছিল। মূল কক্ষ ছাড়াও, উত্তর ও দক্ষিন দিকে আছে একটি করে পার্শ্বকক্ষ। এর মধ্যে উত্তর দিকের রুমটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত।  কারন এখানেই রয়েছে পবিত্র দুটি পায়ের ছাপ।

প্রথম পাথরটিতে আছে পুরো পৃথিবীকে দ্বীনের পথ দেখানো, এবং ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে প্রানপ্রিয় নবী, হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর পায়ের ছাপবিশিষ্ট কদম মোবারক।

পাশে থাকা পাথরে আরেকটি পায়ের ছাপ আছে,  যেটি বড়পীর হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রা.) এর বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

প্রতিষ্ঠিত কোন সত্যতা না থাকলেও সবাই বিশ্বাস করেন, মসজিদের নির্মাতা ও অর্থ যোগানদাতা নবাব ইয়াছিন খান, ছাপ মোবারকদ্বয় সুদূর আরব দেশ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন।

দু'টি পায়ের ছাপই সবসময় পানিতে ভেজানো থাকে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা অনেকেই রোগ মুক্তি এবং মনোবাসনা পূরনের উদ্দেশ্যে, ভক্তি সহকারে এই পানি পান করে থাকেন।

এছাড়াও মহানবী(সাঃ) এর স্মৃতি সম্বলিত মসজিদে, নামাজ আদায়ের জন্য ভিড় করেন অসংখ্য মুসল্লি। এমনকি আজমির, কাশ্মীর সহ পাকিস্থান থেকেও দর্শনার্থী আসেন এখানে।

চট্টগ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্র, চেরাগীর পাহাড় এলাকায় থাকা দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদ যে কারো নজর কাড়ে। মুঘল সম্রাট মুহম্মদ শাহ এর শাসনামলে নির্মিত হওয়ায়, এতে মুঘল স্থাপত্যশৈলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

উপাসনালয়টির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যথাক্রমে ১৩ মিটার এবং ৭.৪২ মিটার। এর সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিন দিকে থাকা, বাড়তি পার্শ্বকক্ষ দুটি নিয়ে দৈর্ঘ্য ২৩.১৬ মিটার। স্থাপনাটির সামনে আছে সুপরিসর খোলা মাঠ।

লম্বাকৃতির মসজিদের ছাদে আছে তিনটি গম্বুজ। চারকোণে রয়েছে তিন-স্তর বিশিষ্ট অষ্টভুজী মিনার। এছাড়াও সামনের দিকে বড় দরজার উপর, আরো দুটি সরু মিনার বানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে এতে মোট ৫টি দরজা আছে। তিনটি দরজা সম্মুখভাগের দেওয়ালে, ও একটি করে দরজা পার্শ্বকক্ষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে। তবে পার্শ্বকক্ষগুলিরও নিজস্ব প্রবেশপথ এবং জানালা রয়েছে।

পশ্চিম দেওয়ালের মাঝখানে বানানো হয়েছে একটি কেন্দ্রীয় মিহরাব। যার আশেপাশে সজ্জিত আছে মোঘল স্থাপত্যের আরবি ক্যালিওগ্রাফি, লতাগুল্মের নকশা, মোজাইক নকশা ও জ্যামিতিক চিত্র।

বর্তমানে সম্পূর্ণ কদম রসুল কমপ্লেক্সটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান ও আধুনিক অবকাঠামো। পাশেই রয়েছে একই নামের স্কুল এবং ইসলামাবাদী স্মৃতি মিলনায়তন।

সময়ের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে, সংস্কার ও সমপ্রসারনের ফলে মসজিদে এখন আধুনিকতার ছোয়া লেগেছে। তবে মূল অবকাঠামোতে মোঘল স্থাপত্যের অনুপম সৌন্দর্য্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।

জনপ্রিয়


ধর্ম থেকে আরও পড়ুন

ঈদের দিন কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জেনে নিন ফিতরা ও যাকাত কাদের দেওয়া উচিত, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ সময়ে এসে মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় ফিতরা ও যাকাত আদায় করা। এই দুটি ইবাদত শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমই নয়, বরং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও মানবিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার এক কার্যকর ব্যবস্থা।

২০৩০ সালে মুসলিমরা পালন করবেন ৩৬টি রোজা, ২০৩৩ সালে সম্ভব তিনটি ঈদ

পবিত্র রমজান মাসে সাধারণত মুসলিমরা ২৯ বা ৩০ দিন রোজা রাখেন। তবে বিশেষ বছরগুলিতে চন্দ্র ও গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির পার্থক্যের কারণে রোজার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। ২০৩০ সালে এমন ঘটনা ঘটবে, যেহেতু সেই বছরে দুইবার রমজান মাস পড়বে।

৬ মার্চ ২০২৬: আজকের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সেহরি ও ইফতারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।