ধর্ম
‘রমজান’ আত্মশুদ্ধির মাস
নূরে আলম সায়মন
ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম হচ্ছে মাহে রমজানের রোজা পালন করা। আত্মশুদ্ধি ও মহান আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জনের বার্তা নিয়ে মাহে রমজান আমাদের মাঝে উপস্থিত। এটি এমন এক মাস, যাতে প্রত্যেক মুসলিম নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুযোগ লাভ করে। মাগফেরাত, রহমত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসে মাহে রমজান। বিশ্ব মুসলিমকে শিক্ষা দেয় সংযত ও সুন্দর জীবনযাপন করার।
পবিত্র মাহে রমজানের ৯ তম দিনের রোজা অতিবাহিত করছি আমরা। নিজেকে পরিবর্তন এবং পাপ মূর্ছনার অন্যতম মাস হল রমজান। রমজানের পবিত্র দিনগুলোতে আমরা যদি একান্তই আল্লাহর জন্য রোজা রাখি এবং নিজেদের দোষ-ক্রটির ক্ষমা চাই, তাহলে তিনি আমাদের ক্ষমা করবেন, শুধু ক্ষমাই নয় বরং পূর্বের সকল পাপও ক্ষমা করে আমাদের সদ্য জন্মপ্রাপ্ত শিশুদের মতো নিষ্পাপ বানিয়ে দিবেন বলে তিনি পবিত্র কোরআন মাজিদে আশ্বাস দিয়েছেন।
এক হাদিসে পাওয়া যায়, হজরত আবু সাঈদ খুদার (রা.) বর্ণনা মতে হুজুর (সা.) বলেছেন, ‘যখন কেউ রমজানের প্রথম দিন রোজা রাখে তখন তার পূর্বেকার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। এমনিভাবে রমজান মাসের সমস্ত দিন চলতে থাকে এবং প্রতি দিন তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা সকালের নামাজ থেকে শুরু করে তাদের পর্দার অন্তরালে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তার ক্ষমার জন্য দোয়া করতে থাকে’ (কানযুল উম্মাল, কিতাবুস সওম)।
অন্য হাদিসে পাওয়া যায়, একবার মহানবী (সা.) বলেন, ‘ফেরেশতা রোজাদারের জন্য দিন-রাত এস্তেগফার করতে থাকে’।
এছাড়াও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সিয়াম পালনের বিষয়ে বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাস পাবে সে যেন ইমানের সহিত নেক নিয়তে এবং এখলাসের সাথে ইবাদত করে। যদি সে আল্লাহকে রাজি খুশি করার উদ্দ্যেশে রোজা রাখে তাহলে সে নিজ গুনাহ থেকে এভাবে পবিত্র হয়ে যায় যেভাবে সেদিন সে তার মাতৃগর্ভ থেকে সে জন্ম লাভ করেছিল’ (সুনানে নিসাঈ, কিতাবুস সওম)।
হজরত আবু আমামা বর্ণনা করেন, আমি রসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আরয করলাম যে, ‘হে আল্লাহর রসূল ! আমাকে এমন একটি আমল সম্পর্কে বলুন যাতে আমি জান্নাত কামিয়াব করতে পারি। তখন হুজুর (সা.) বললেন, আবশ্যকীয় কর্ম হিসেবে রোজা রাখো। কেননা এটি সেই আমল যার কোন উপমা বা পরিবর্তন নেই’ (নিসাঈ, কিতাবুস সওম)।
আরেক এক হাদিসে পাওয়া যায়, হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বলেন, বিশ্বনবী বলেন ‘যে বান্দা আল্লাহর পথে এক দিন রোজা রাখে আল্লাহতায়ালা তার চেহারা থেকে আগুনকে দূরে সরিয়ে দেন’ (সহি মুসলিম)।
রাসুলে পাক (সা.) আরও ইরশাদ করেছেন, রোজা মানুষের জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে যতক্ষণ পর্যন্ত তা নিয়ম অনুযায়ী পালন করা হয়। (ইবনে মাজাহ, নাসাঈ)।
রোজাদারের খুশির বিষয় দুটি- যখন সে ইফতার করে তখন একবার খুশির কারণ হয়। আর একবার যখন সে তার আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রোজার বিনিময় লাভ করবে তখন খুশির কারণ হবে। (বুখারি শরিফ )।
তিরমিযি শরিফে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তায়ালা এ মাসে বহু রোজাদার ব্যক্তিকে দোজখ থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলে পাক (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে শরিয়তের কোনো কারণ ছাড়া রমজানের একটি রোজাও ভাঙে, সে রমজানের বাইরে সারাজীবন রোজা রাখলেও এর বদলা হবে না। (তিরমিযি, আবু দাউদ)।
মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে মাহে রমজানের প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করে আত্মার পরিশুদ্ধির মাধ্যমে খাঁটি মুসলমান হওয়ার তৌফিক দান করুন।
জনপ্রিয়
ধর্ম থেকে আরও পড়ুন
আরাফাতের ময়দানে ১৬ লাখ হজযাত্রীর ক্ষমা ও রহমতের প্রার্থনা
পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘ওকুফে আরাফাহ’ পালনে মঙ্গলবার ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬ লাখের বেশি হজযাত্রী। মহান আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত লাভের আশায় তারা দিনভর ইবাদত, দোয়া ও জিকিরে মশগুল রয়েছেন। সৌদি প্রেস এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।

বজ্রপাতে পশু মারা গেলে কি কুরবানি আদায় হবে?
ঈদুল আজহাকে ঘিরে মুসলমানরা আগে থেকেই কুরবানির পশু কিনে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। তবে অনেক সময় বজ্রপাত, দুর্ঘটনা, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে পশু মারা যেতে পারে। তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— এমন অবস্থায় কি কুরবানি আদায় হবে, নাকি নতুন পশু কিনতে হবে?

কিয়ামতের জিজ্ঞাসাবাদ: বান্দার আমলই দেবে চূড়ান্ত সাক্ষ্য
কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাআলা কীভাবে বান্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন—এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস বর্ণনা করেছেন হযরত আবু হুরায়রা (রা.)। এই হাদিসে তুলে ধরা হয়েছে মানুষের আমল, জবাবদিহিতা এবং পরিণতির বাস্তবচিত্র।

ঈদের দিন কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

.jpg)







