বাংলাদেশ
চট্টগ্রামে বন্যার্তদের পাশে সেনাবাহিনী, ৩ হাজার পরিবারে ত্রাণ ও ৫ হাজার মানুষকে চিকিৎসাসেবা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও বোয়ালখালী উপজেলাসহ তিন পার্বত্য জেলার বন্যাকবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার পরিবারের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ৫ হাজার মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বন্যার কারণে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে আটকে পড়া প্রায় ৩ হাজার পর্যটককে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) চট্টগ্রাম সেনানিবাস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। সেনাবাহিনী জানায়, চট্টগ্রাম সেনানিবাস ও তিন পার্বত্য রিজিয়ন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছোট ছোট মোবাইল টিমে বিভক্ত হয়ে সেনাসদস্যরা দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও তিন পার্বত্য জেলা মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার পরিবারের কাছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয় পানি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৫ হাজার মানুষকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া বন্যার কারণে সাজেকসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে আটকে পড়া প্রায় ৩ হাজার পর্যটককে নিরাপদে জেলা শহরগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় সেনাবাহিনীর ত্রাণ, উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজানের পানিতে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগের সার্বিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বিভাগীয় প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে ২৮ জন, চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ জন মারা গেছেন। রাঙামাটি ও কক্সবাজারে একজন করে মোট দুজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
বিভাগের ১১ জেলার মোট ৪০৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ। বর্তমানে বিভাগের ৩ হাজার ৯৪১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৪ হাজার ৭২৩ জন মানুষ অবস্থান করছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ২২ হাজার ৬০০ জন।
বন্যায় বিভাগজুড়ে ৭৯ হাজার ১৮৭টি বসতঘর, ৩৪৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৩ হাজার ৮৪০ কিলোমিটার সড়ক এবং ৩৩৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এ পর্যন্ত ৯২৩ টন চাল, ৭ হাজার ২৮১ প্যাকেট শুকনা খাবার এবং ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা নগদ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
Beyond Outsourcing: How Betopia Is Building Bangladesh’s Next Global Enterprise AI Company
For more than a decade, Bangladesh has been recognised as a global outsourcing destination. Muhammad Monir Hossain believes the country’s next chapter is not outsourcing, but building world-class enterprise technology companies that compete on innovation, capability and scale. Betopia Group is his attempt to prove it.

আউটসোর্সিং থেকে বৈশ্বিক এআই নেতৃত্বে: বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলতে বেটোপিয়া গ্রুপের নতুন যাত্রা
বাংলাদেশকে শুধু আউটসোর্সিংনির্ভর প্রযুক্তি বাজার হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক এন্টারপ্রাইজ প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের প্রতিযোগিতামূলক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বেটোপিয়া গ্রুপ।

বাংলাদেশজুড়ে ফ্লেক্সিবল ডেলিভারি সেবা চালু করল পাঠাও পার্সেল
দেশের অন্যতম শীর্ষ সুপার অ্যাপ পাঠাও তাদের পার্সেল সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণ করেছে। গ্রাহকদের প্রয়োজন, সময় ও বাজেট বিবেচনায় আরও দ্রুত, নমনীয় এবং সাশ্রয়ী ডেলিভারি নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি একাধিক নতুন ডেলিভারি অপশন চালু করেছে।

ইইউবিতে বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস গঠন, বিওটি ভেঙে দেওয়ার প্রচারণা গুজব: কর্তৃপক্ষ
ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (ইইউবি) শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, একাডেমিক পরিবেশ উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ধারা ৩৫(৭) অনুযায়ী একটি বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস গঠন করেছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (বিওটি) ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।








