বাংলাদেশ


শহীদ সবুজ মিয়ার শেষ ঠিকানায় ফেরা: গাইবান্ধায় চলছে জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি


দূরবিন ডেস্ক

দূরবিন ডেস্ক

প্রকাশিত:২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার

শহীদ সবুজ মিয়ার শেষ ঠিকানায় ফেরা: গাইবান্ধায় চলছে জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি

সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘের (ইউএন) শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় শহীদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য সবুজ মিয়ার মরদেহ অবশেষে পৌঁছেছে তার গ্রামের বাড়িতে। প্রিয় মানুষটিকে শেষ বিদায় জানাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে চলছে জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি। শোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা।

 

রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে সবুজ মিয়ার মরদেহ গাইবান্ধার তুলসীঘাট হেলিপ্যাডে আনা হয়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহ পৌঁছে দেওয়া হয় পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের আমলাগাছি (ছোট ভবনপুর) গ্রামে, তার নিজ বাড়িতে। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো গ্রাম।

 

সবুজ মিয়া ছিলেন আমলাগাছি (ছোট ভবনপুর) গ্রামের মৃত হাবিদুল ইসলামের ছেলে। ছোটবেলাতেই বাবাকে হারিয়ে জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করেই বড় হয়েছেন তিনি। সেই সংগ্রামী জীবন শেষে দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করলেন এই সাহসী সেনাসদস্য।

 

মরদেহ এক নজর দেখতে বাড়ির আঙিনায় ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী। সন্তানের নিথর দেহ দেখে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন মা ছকিনা বেগম। তাকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বজনরা। হৃদয়বিদারক এই দৃশ্য দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না কেউই।

 

নিহতের স্ত্রী নূপুর আক্তার, যিনি উচ্চ মাধ্যমিকের শেষ বর্ষের ছাত্রী, কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বিয়ের মাত্র এক বছর আট মাসের মাথায় সব শেষ হয়ে গেল। আমাদের সব স্বপ্ন এক মুহূর্তে ভেঙে পড়ল।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী সবুজ মিয়ার গ্রামের বাড়িতেই গার্ড অব অনার ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান শেষে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তাকে তার বাবার কবরের পাশে দাফন করা হবে। এই উপলক্ষে গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ছে।

 

উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সুদানের আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিক বেসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী শহীদ হন এবং আটজন আহত হন। শহীদ সবুজ মিয়া সেখানে লন্ড্রি কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

 

রংপুর সেনানিবাসের ক্যাপ্টেন মো. আলভী জানান, শহীদ সবুজ মিয়ার জানাজা ও দাফন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে।

 

শান্তিরক্ষার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন দেওয়া এই সন্তানকে নিয়ে দেশ গর্বিত হলেও, সন্তান হারানোর বেদনায় আজ নিথর হয়ে আছে একটি পরিবার, একটি গ্রাম।

 

সম্পর্কিত

গাইবান্ধাজানাজাশহীদ সবুজ মিয়াসেনাবাহিনী

জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

সীমান্তে আবার ও বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আলী হোসেন (৪০) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার ধবলগুড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল গফুরের ছেলে।

রাত পোহালেই শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন, কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে সরঞ্জাম

রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণের সকল সরঞ্জামাদি কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো শুরু হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি।

অসহায় সামিয়ার পাশে দাঁড়ালো স্বপ্ন

লালমাই উপজেলার ২ নং বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের পোহনকুছা পশ্চিম পাড়ার ১২ বছর বয়সী অসহায় মেয়ে সামিয়া আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় রিটেইল প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন। প্রতিষ্ঠানটি মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে সামিয়ার জন্য প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

নগদের ক্যাম্পেইনে হেলিকপ্টার ভ্রমণের স্বপ্ন সত্যি হলো ইমন ও আফজালের

পবিত্র রমজান উপলক্ষে নগদ গ্রাহকদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়, যেখানে কেনাকাটা করে নগদ ওয়ালেট ব্যবহারকারীরা হেলিকপ্টার ভ্রমণের আকর্ষণীয় পুরস্কার জিততে পারতেন। এই ক্যাম্পেইনের মূল বিজয়ী হয়েছেন ঢাকার দুই গ্রাহক কাজী ইমন ও আফজাল হোসেন।