সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিক। উদ্দেশ্য প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। অথচ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার প্যারাভাংগা কমিউনিটি ক্লিনিক ঘিরে উঠেছে উল্টো চিত্রের অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়মিত উপস্থিতি না থাকায় ক্লিনিকের দরজা খুলতে স্থানীয় এক নারীকে মাসিক এক হাজার টাকা পারিশ্রমিকে রাখা হয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্লিনিকটির কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মিনা আক্তার প্রায় নয় বছর ধরে সেখানে কর্মরত। তবে তিনি নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাঁর অনুপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তাঁদের।

citytouch 728-X-90


একই অভিযোগ স্বাস্থ্য সহকারী আল মামুনের বিরুদ্ধেও। স্থানীয়দের ভাষ্য, সপ্তাহে তিন দিন দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও তাঁকে নিয়মিত ক্লিনিকে পাওয়া যায় না। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।


স্থানীয়দের দাবি, ‘রিনা খালা’ নামে পরিচিত এক নারীকে মাসে এক হাজার টাকা দিয়ে ক্লিনিকের তালা খোলা ও দেখভালের কাজে রাখা হয়েছে। তিনি না থাকলে ক্লিনিকটি দীর্ঘ সময় বন্ধ পড়ে থাকে বলেও অভিযোগ তাঁদের।


সম্প্রতি সরেজমিনে ক্লিনিকটিতে ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়া ও জরাজীর্ণতার চিত্র দেখা যায়। দেয়ালে বিভিন্ন ওষুধের তালিকা টাঙানো থাকলেও পরিদর্শনের সময় নিয়মিত রোগীসেবা দেওয়ার চিত্র দেখা যায়নি।


স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যদি স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতিই নিশ্চিত না হয়, তাহলে প্রত্যন্ত মানুষের জন্য নেওয়া স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম কতটা কার্যকর হচ্ছে?


তাঁরা অভিযোগের তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ক্লিনিকে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


অভিযোগের বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নাজমুল করিম বলেন, বিষয়টি তিনি দেখবেন।


এখন স্থানীয়দের অপেক্ষা—তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয় এবং প্যারাভাংগা কমিউনিটি ক্লিনিকের দীর্ঘদিনের অনিয়মের অভিযোগের প্রকৃত চিত্র কী, সেটিই দেখার বিষয়।