স্বাস্থ্য


কিডনি রোগের আগাম লক্ষণ


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:১৮ মে ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার

কিডনি রোগের আগাম লক্ষণ

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনকে অনেকেই সাধারণ শারীরিক সমস্যা হিসেবে দেখেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, এটি কখনও কখনও শরীরে নীরবে বাসা বাঁধা কিডনি রোগের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হতে পারে। কারণ কিডনির রোগ প্রাথমিক অবস্থায় তেমন কোনো স্পষ্ট উপসর্গ তৈরি না করেই ধীরে ধীরে শরীরের ভেতরে জটিলতা সৃষ্টি করে।

 

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকে উচ্চ রক্তচাপকে মানসিক চাপ, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস বা হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্কিত মনে করে শুধু ওষুধ সেবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই রক্তচাপের এই অস্বাভাবিকতা কিডনির অভ্যন্তরীণ সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। সময়মতো বিষয়টি শনাক্ত করা গেলে কিডনির বড় ধরনের ক্ষতি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

 

 

চিকিৎসকদের মতে, কিডনি শুধু শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয় না, এটি শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুস্থ কিডনি শরীরে তরলের ভারসাম্য ঠিক রাখে এবং প্রয়োজনীয় হরমোন নিঃসরণ করে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে। কিন্তু ডায়াবেটিস, সংক্রমণ, গ্লোমেরুলার ডিজিজ বা বংশগত রোগের কারণে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। তখন কিডনি ‘রেনিন’সহ বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ শুরু করে, যা রক্তনালী সংকুচিত করে এবং শরীরে অতিরিক্ত লবণ ও পানি জমিয়ে রাখে। এর ফলেই রক্তচাপ বেড়ে যায়।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। যেমন ৩০ বছরের কম বয়সে হঠাৎ উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেওয়া, তিন বা তার বেশি ওষুধ খাওয়ার পরও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না আসা কিংবা আগে নিয়ন্ত্রিত থাকা রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়া এসবই কিডনি রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।

 

 

চিকিৎসকেরা জানান, কিডনি রোগকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়, কারণ রোগটি অনেক সময় দীর্ঘদিন উপসর্গ ছাড়াই শরীরে ক্ষতি করে। তবে রোগ বাড়তে থাকলে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে পা ফুলে যাওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, ঘনঘন মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা, ক্ষুধামন্দা, প্রস্রাবের রং পরিবর্তন, প্রস্রাবে ফেনা হওয়া বা রাতে বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া।

 

 

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ওষুধ সেবনের পরও যদি রক্তচাপ স্বাভাবিক না থাকে, তাহলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কিডনির কার্যকারিতা বোঝার জন্য রক্তে ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা, কিডনি ফাংশন টেস্ট, প্রস্রাব পরীক্ষা এবং আল্ট্রাসাউন্ড করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

 

চিকিৎসকদের মতে, জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে কিডনি সুস্থ রাখা সম্ভব। খাবারে লবণ কম খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান পরিহার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ না খাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

 

তাদের মতে, নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা শুধু হৃদরোগ প্রতিরোধেই নয়, কিডনি রোগ প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

 

সূত্র: এনডিটিভি।

 

 


জনপ্রিয়


স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন

প্রথমবার দেহ থেকে সম্পূর্ণভাবে এইডস অপসরণ করল নোবেলজয়ী আবিষ্কার

জীবাণুমুক্তকরণ ও জিন প্রযুক্তির যুগান্তকারী অগ্রগতি ‘ক্রিসপার-ক্যাস৯’ (CRISPR/Cas9) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানবদেহ থেকে এইচআইভি (HIV) ভাইরাস নির্মূলের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। সাম্প্রতিক এই গবেষণা বিশ্বজুড়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘদিন ধরে দুরারোগ্য হিসেবে পরিচিত এইচআইভি সংক্রমণের বিরুদ্ধে এটি ভবিষ্যতে কার্যকর সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

ঢামেকে অসুস্থ রোগীকে দেখতে গেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, চিকিৎসার খোঁজখবর নিলেন নিজে

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গৃহপরিচারিকা ফাতেমা বেগমের অসুস্থ ভাতিজি সীমা (৩২)-কে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।'

২৪ ঘণ্টায় ১০ মৃত্যু, হামে আক্রান্ত ১৪২৮ শিশু—ঢাকায় সর্বোচ্চ ঝুঁকি

দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ শিশুর মৃত্যুসহ ১,৪২৮ জন নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। রোববার (১২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

রমজান মাসে রোজা রাখলে আপনার শরীরে কী ঘটে

যখন এই খাদ্য পুরোপুরি হজম হয়ে যায়, তখন আমাদের শরীর যকৃৎ এবং মাংসপেশীতে সঞ্চিত থাকে যে গ্লুকোজ, সেটা থেকে শক্তি নেয়ার চেষ্টা করে। শরীর যখন এই চর্বি খরচ করতে শুরু করে, তা আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।