আন্তর্জাতিক
জাপানে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৭, তীব্র গরমে পানি ও বিদ্যুৎ সংকট উদ্ধারকাজে বড় চ্যালেঞ্জ

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে, সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুতের সংকট তীব্র গরমের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কুমামোতো প্রিফেকচারের ইয়াতসুশিরো শহরের কর্মকর্তা আকিও মাতসুশিতা জানান, শহরের প্রায় ৫৮ হাজার পরিবারের বড় অংশ এখনো পানি ও বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রধান পানির পাইপলাইন মেরামতে কত সময় লাগবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
তিনি বলেন, “গ্রীষ্মের এই প্রচণ্ড গরমে পানির অভাব সবচেয়ে বড় সংকটে পরিণত হয়েছে।” সিটি হলের টয়লেট অচল হয়ে যাওয়ায় কর্মকর্তারা নর্দমার ম্যানহোলের ওপর অস্থায়ী টয়লেট স্থাপন করেছেন। প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও উচ্চ আর্দ্রতার মধ্যে সেগুলো ব্যবহার করতে হচ্ছে।
আকিও মাতসুশিতা বলেন, “এটি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ কাজ এবং কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই।”
কুমামোতো প্রিফেকচার সরকার জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজের একটি কাগজ কারখানায় ভবন ধসে এবং এইঅন (Aeon) শপিং মলে সম্ভাব্য গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাণ হারান।
এ ছাড়া আরও ছয়জনকে হৃদ্যন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ভূমিকম্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে এমন ঘটনাসহ মোট মৃতের সংখ্যা ২৮ জনে পৌঁছাতে পারে বলে জাপানের শীর্ষ সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, সপ্তাহান্তে তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। এতে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ছে। জাপানের সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স (এসডিএফ) কুমামোতোর আশ্রয়কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে প্রায় ৩০০টি এয়ার কন্ডিশনার স্থাপন করছে। একই সঙ্গে সামরিক বাহিনীর পানিবাহী ট্যাংকার দিয়ে বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টার ও স্কুলে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে প্রতি ব্যক্তি মাত্র তিন লিটার পানি পাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর খোলা থাকা দোকানগুলোতে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে মানুষের ভিড় বেড়ে গেছে। পেট্রোল স্টেশনগুলোতেও দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। এক বাসিন্দা বলেন, “দুর্যোগ না ঘটলেই ভালো হতো। কিন্তু এটি জাপান, তাই হয়তো আমাদের এভাবেই বাঁচতে শিখতে হবে।”
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। কঠোর নির্মাণবিধি ও নিয়মিত দুর্যোগ মহড়ার কারণে প্রাণহানি তুলনামূলক কম হলেও শক্তিশালী ভূমিকম্প বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের কারণে টয়োটা, হোন্ডা, নিসান, আইসিন ও সনিসহ একাধিক বড় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আংশিকভাবে উৎপাদন বন্ধ করেছে। তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা টিএসএমসিও কর্মীদের সরিয়ে নিয়ে সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত করে ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করেছে।
২০১৬ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে কুমামোতো অঞ্চলে ২৬০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের মতে, এবার ইয়াতসুশিরোতে অনুভূত কম্পন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ভয়াবহ ছিল।
এক বাসিন্দা বলেন, “মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবী নড়ে উঠেছে। আমার শরীর যেন ওজনহীন হয়ে বাতাসে ছিটকে যাচ্ছিল।”
জনপ্রিয়
সর্বশেষ
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
ইরাকে হামলার পর ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর জরুরি বৈঠক
ইরানে সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ইরানের সঙ্গে চলমান পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু গুরুত্ব পায়।

ইরানকে কড়া বার্তা ইরাকের শিয়া নেতা আল-সাদরের
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং তেহরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো সামরিক অভিযান না চালানোর কড়া বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রভাবশালী শিয়া নেতা মুকতাদা আল-সাদর। তিনি বলেছেন, ইরাককে কোনো আঞ্চলিক সংঘাতের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করা যাবে না।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক ‘এখন পর্যন্ত সেরাগুলোর একটি’, বললেন নেতানিয়াহু
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠককে "এখন পর্যন্ত অন্যতম সেরা" বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের টানাপোড়েনের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে দুই দেশের জোটকে "গ্রানাইটের দেয়ালের মতো দৃঢ়" বলে বর্ণনা করেন।

মার্কিন ঘাঁটিতে অভিযানে নিহত ইরানি পাইলটের মরদেহ ফিরছে দেশে
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সময় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এক অভিযানে নিহত ইরানি পাইলট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ কাজেমির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।







