আন্তর্জাতিক


কুয়েতের ‘ভুল’ নিশানায় যুক্তরাষ্ট্রের ৩ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:০২ মার্চ ২০২৬, ০১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার

কুয়েতের ‘ভুল’ নিশানায় যুক্তরাষ্ট্রের ৩ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালে কুয়েতে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। সোমবার কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে ‘ভুলবশত’ ছোড়া গোলার আঘাতে এফ-১৫ই (F-15E) স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানগুলো ভূপাতিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এই তথ্য নিশ্চিত করে একে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা মিত্রবাহিনীর ভুল হিসেবে অভিহিত করেছে।

 

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিধ্বস্ত তিনটি উড়োজাহাজের মোট ছয়জন ক্রুই জরুরি নির্গমন প্রক্রিয়ায় (Eject) নিরাপদে বের হয়ে আসতে পেরেছেন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মরুভূমি এলাকায় প্যারাস্যুটের সাহায্যে নামার পর একজন পাইলটকে অক্ষত অবস্থায় স্থানীয়রা দেখছেন।

 

সেন্টকমের দাবি, ইরান থেকে আসা সম্ভাব্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহতের প্রস্তুতি চলাকালে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। সক্রিয় লড়াইয়ের উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতের প্রতিরক্ষা বাহিনী ভুলবশত মার্কিন বিমানগুলোকে লক্ষ্য করে গোলা ছোড়ে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল সাইদ আল-আতোয়ান জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই দ্রুততম সময়ে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।

 

ভূপাতিত হওয়া প্রতিটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানের বাজারমূল্য কোটি কোটি ডলার। সিএনএন-এর ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্তকরণ (Geolocate) অনুযায়ী, একটি বিমান কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ‘আলি আল সালেম’ ঘাঁটি থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে আছড়ে পড়ে। ভিডিওতে বিমানটিতে আগুন ধরে আকাশ থেকে ঘুরতে ঘুরতে নিচে পড়তে দেখা গেছে।

 

কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসের আশপাশে ধোঁয়া উড়তে দেখার খবরের মধ্যেই এই বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বিদেশের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি শক্তিশালী যুদ্ধবিমান একসঙ্গে ধ্বংস হওয়াকে সামরিক বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বিরল বলে মনে করছেন।

 

সেন্টকম জানিয়েছে, এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এই কঠিন সময়ে এবং চলমান অভিযানে কুয়েত সরকারের অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রশাসন।


জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনির কম্পাউন্ডে ৩০টি বোমা হামলার দাবি, ইরানে যৌথ অভিযান নিয়ে চাঞ্চল্য

ইসরায়েল–এর যুদ্ধবিমান থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে প্রায় ৩০টি বোমা ফেলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য প্রকাশ করে। হামলার ফলে ওই কম্পাউন্ডে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসের ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সৌদি যুবরাজের চাপেই কি ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প?

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর ওপর মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশ সৌদি আরব–এর উচ্চপর্যায়ের চাপ ছিল। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে হামলার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কাছে লবিং চালান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কুয়েতের আকাশে মার্কিন এফ–১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের দাবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান–এর মিসাইল হামলায় কুয়েতের আকাশে এফ–১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় থাকা যুদ্ধবিমানটি হঠাৎ আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে নিচে পড়ে যেতে দেখা গেছে।

খামেনিকে লক্ষ্য করে ৩০টি বোমা হামলার দাবি, ইরানে ব্যাপক ধ্বংসের তথ্য

ইসরায়েল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–কে লক্ষ্য করে প্রায় ৩০টি বোমা নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যুদ্ধবিমান থেকে এই হামলা চালানো হয় এবং এতে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও প্রশাসনিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র উল্লেখ করেছে।