আন্তর্জাতিক
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প শিবিরে ‘অনুশোচনা’: সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন, বাড়ছে দীর্ঘমেয়াদি সংকটের আশঙ্কা

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের ভেতরেই এখন অনুশোচনার সুর শোনা যাচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগে প্রশাসনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা এ সিদ্ধান্তে অনিচ্ছুক ছিলেন এবং আরও সময় নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সব দ্বিধা কাটিয়ে ট্রাম্প দ্রুত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক কিছু সামরিক সাফল্য বিশেষ করে ইরানে পূর্ববর্তী হামলা ও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অভিযানের অভিজ্ঞতা—ট্রাম্পকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। তিনি ধারণা করেছিলেন, স্থলসেনা ছাড়াই ইরান সরকারকে দ্রুত দুর্বল করা সম্ভব হবে।
তবে বর্তমানে প্রশাসনের ভেতরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। এতে করে সংঘাত প্রত্যাশার তুলনায় জটিল হয়ে উঠেছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প এখন হরমুজ প্রণালী ঘিরে এক ধরনের ‘এসক্যালেশন ট্র্যাপ’-এ পড়ে গেছেন। অর্থাৎ এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে শক্তির প্রমাণ দিতে গিয়ে ক্রমাগত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যদিও বাস্তব সাফল্য তুলনামূলক কমে আসছে।
একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের তৎপরতা ট্রাম্পকে আরও কঠোর অবস্থানে যেতে প্ররোচিত করছে, যদিও অনেকেই পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন।
প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শেষ করার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাতের তীব্রতা কমলেও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হয়। বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ওই অভিযানে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেসিসহ প্রায় ১,৩০০ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৪ জন সামরিক সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
জাপানে ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৭, তীব্র গরমে পানি ও বিদ্যুৎ সংকট উদ্ধারকাজে বড় চ্যালেঞ্জ
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে, সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুতের সংকট তীব্র গরমের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ইরাকে হামলার পর ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর জরুরি বৈঠক
ইরানে সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ইরানের সঙ্গে চলমান পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু গুরুত্ব পায়।

ইরানকে কড়া বার্তা ইরাকের শিয়া নেতা আল-সাদরের
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং তেহরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো সামরিক অভিযান না চালানোর কড়া বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রভাবশালী শিয়া নেতা মুকতাদা আল-সাদর। তিনি বলেছেন, ইরাককে কোনো আঞ্চলিক সংঘাতের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করা যাবে না।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক ‘এখন পর্যন্ত সেরাগুলোর একটি’, বললেন নেতানিয়াহু
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠককে "এখন পর্যন্ত অন্যতম সেরা" বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের টানাপোড়েনের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে দুই দেশের জোটকে "গ্রানাইটের দেয়ালের মতো দৃঢ়" বলে বর্ণনা করেন।









