.webp&w=3840&q=75)

এক সময় ভোরের শহর মানেই ছিল কাকের ডাক। চোখ খুলতেই কানে আসত সেই চেনা ‘কা… কা… কা…’। আবার দুপুরে কাকডাকা দুপুর রোদে ঝিম ধরা শহর, আধখোলা জানালা, ঘুম আসে-যায়; ঠিক তখনই কাকের ডাক। বিরক্তিকর ছিল, তবু না থাকলে যেন কিছু একটা কম লাগত। আজ সেই ডাক আর শোনা যায় না। তাই প্রশ্নটা নিজের অজান্তেই উঠে আসে এই শহরের কাকেরা কোথায় গেল?
কাক ছিল শহরের সবচেয়ে আপন পাখি। ছাদের কার্নিশ, বৈদ্যুতিক তার, ডাস্টবিনের পাশে সবখানেই তাদের অবাধ যাতায়াত। তারা ছিল নগরের অঘোষিত সাফাইকর্মী। মানুষের ফেলে দেওয়া খাবারেই চলত তাদের জীবন। শহরের সঙ্গে তাদের সহাবস্থান ছিল স্বাভাবিক, নির্ভার। কেউ ভাত ফেললে কাক হাজির, কাপড় শুকোতে দিলে সাবধান তবু কারও রাগ হতো না। তারা ছিল আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।
স্কুলজীবনের কথা মনে পড়ে। ভোরে মায়ের ডাক ‘ওঠ, দেরি হবে।’ উঠেই কাকের ডাক। মনে হতো, ওরাও বুঝি আমাদের মতোই কাজে বেরিয়েছে। কলোনির ছাদগুলো ছিল তাদের স্থায়ী ঠিকানা। দুপুরে দিদিমার গল্প, স্কুলব্যাগ ছুড়ে ফেলার আনন্দ, ঘুম ভাঙানোর সেই কর্কশ ডাক সব মিলিয়ে কাক ছিল শৈশবের পটভূমির সংগীত।
এখনো দুপুর আসে, যায়। জানালা খুললে শোনা যায় এসির গুঞ্জন, গাড়ির হর্ন। কিন্তু কাকের ডাক নেই। গ্রীষ্মের ছুটিও আর আগের মতো লাগে না। মোবাইলের স্ক্রিনে সময় কেটে যায়, অলস দুপুরের সুযোগই মেলে না। আর ঘুম ভাঙানোর জন্য কেউ ডাকেও না।
কাকেরা কি শুধু পাখি ছিল? নাকি তারা ছিল সময়ের চিহ্ন অলসতার সঙ্গী, ছুটির দিনের শব্দ, শহরের স্মৃতি? তাদের ডাকের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল মায়ের বকুনি, দিদিমার আদর, ছোটবেলার নির্ভার দিনগুলো।
শহর বদলেছে। একতলা-দোতলার জায়গায় উঠেছে বহুতল। কার্নিশ সরু, ছাদে খোলা জায়গা কম। বট-অশ্বত্থ কেটে গেছে পার্কিং আর ফ্লাইওভারের নিচে। গাছ মানেই তো পাখির ঘর। গাছ কমলে বাসা কমে, ডিম পাড়ার জায়গা কমে কাকেরাও সরে যায়।
খাবারের সংকটও বড় কারণ। ‘ক্লিন সিটি’ অভিযান ঢাকনাওয়ালা ডাস্টবিন, আবর্জনা আলাদা করে সংগ্রহ স্বাস্থ্যকর, প্রয়োজনীয়। কিন্তু এর অপ্রত্যাশিত ফল হলো কাকের মতো স্ক্যাভেঞ্জার পাখিদের খাদ্য হঠাৎ ফুরিয়ে যাওয়া। মানুষের শহরই ছিল তাদের ভরসা; সেই শহরই তাদের মুখ ফিরিয়ে নিল।
তার ওপর শব্দদূষণ। সারাক্ষণ হর্ন, নির্মাণকাজ, জেনারেটরের আওয়াজ। কাক সামাজিক পাখি ডাকাডাকি তাদের যোগাযোগ। শহরের কোলাহলে সেই যোগাযোগ ভেঙে যায়। ধীরে ধীরে তারা এমন জায়গায় সরে যায়, যেখানে নিজেদের ডাক শোনা যায়।
কাকের অনুপস্থিতি শুধু নস্টালজিয়ার বিষয় নয়, এটা পরিবেশগত সতর্কবার্তা। কোনো বাস্তুতন্ত্রে স্ক্যাভেঞ্জার কমে যাওয়া মানে ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। শহর হয়তো চকচকে হয়েছে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে কি আরও অসুস্থ হয়ে ওঠেনি?
তবু আশা আছে। ছাদবাগান, নগর বনায়ন, বিষমুক্ত পরিবেশ এসব ফিরলে পাখিরাও ফিরতে পারে। কাক খুব সহজে মানিয়ে নেয়, যদি আমরা তাদের জন্য একটু জায়গা রাখি। হয়তো একদিন ভোরের শহরে আবার শোনা যাবে সেই পরিচিত ডাক। তখন প্রশ্নটা বদলে যাবে এই শহরের কাকেরা ফিরল কীভাবে?
মাঝে মাঝে খুব ভোরে বা ভরদুপুরে দূরে কোথাও ক্ষীণ একটা ডাক কানে আসে। মনে হয়, ভুল শুনলাম? নাকি সত্যিই কেউ আছে? তখন বুকের ভেতর কেমন একটা হাহাকার ওঠে। প্রশ্নটা আবার ফিরে আসে এই শহরের কাকেরা কোথায় গেল? নাকি তারা চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সেই পুরোনো দিনগুলোও নিয়ে গেল?
লেখক: নাদিয়া রহমান
‘সহজ কিস্তি’, ‘০% সুদ’ গ্রাহক আকৃষ্ট করতে এমন প্রচারণার আড়ালে স্মার্টফোন কিনতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে কেন? চীনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ড ভিভো বাংলাদেশের কিস্তি বিক্রয়ব্যবস্থা নিয়ে এমন প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। ৯ মাসের কিস্তিতে স্মার্টফোন কিনতে গিয়ে নগদ মূল্যের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে গ্রাহককে। অথচ প্রচারণায় বলা হচ্ছে ‘০% সুদ’।
শুধুমাত্র বেসিক বেতন থাকে ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ চাকরির শুরুতে বেসিক বেতন হবে ১১ হাজার টাকা, এরপর সময়ের সাথে সাথে বেড়ে দাঁড়াবে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত।
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন (২৭)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় তার রুমমেট ২৬ বছর বয়সী সাবেক ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ) শিক্ষার্থী হিশাম আবুঘারবিয়াহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে নিখোঁজ থাকা আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টির কোনো সন্ধান এখনো মেলেনি।


দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং শিল্পখাতের চাহিদার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জব ফেয়ার ২০২৬’, যার আয়োজন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইউসেপ বাংলাদেশ। ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত অল্টারনেটিভ লার্নিং প্রজেক্ট (ALP) এবং জিআইজেড-এর Advantage প্রজেক্ট-এর আওতায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজন তরুণদের জন্য নতুন কর্মজীবনের সুযোগ উন্মোচনের পাশাপাশি নিয়োগদাতা ও চাকরিপ্রত্যাশীদের এক ছাদের নিচে নিয়ে আসে।
ওজনে কারচুপি, মাছে কেমিক্যাল ও রং মেশানো, চিংড়িতে জেলি দিয়ে ওজন বাড়ানো এবং ক্রেতাদের সঙ্গে অসদাচরণের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।
তাই বর্তমানে এখন অনেকেই মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ, তাদের বেতন, এবং মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হতে কি কি যোগ্যতা লাগে, সেসব সম্পর্কে জানতে ভীষণ আগ্রহী। আর তাদের জন্যই আজকের এই বিশেষ আয়োজন।
অন্যান্য বাহিনীর মতো বাংলাদেশ ফায়ারসার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সেও বিভিন্ন পদ রয়েছে। এরমাঝে একদম মাঠ পর্যায়ের পদগুলোর নাম হচ্ছে ফায়ার ফাইটার, ডুবুরী, নার্সিং এটেন্ডেন্ট ইত্যাদি। এই তিন পদের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের প্রতিবেদন।