
নুরে আলম সাইমনঃ
ঈদে মানেই হাসি-আনন্দ। আর এই আনন্দের মাত্রা আরো কয়েকগুন বেড়ে যায় যখন পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোভাবে ঈদের আনন্দ উদযাপন করা যায়। কিন্তু আমাদের দেশের বেশিরভাগ গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান ঈদ এলেই কর্মীদের বেতন-বোনাস আটকে রেখে পালিয়ে যায়। অনেক গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ও বকেয়া বেতন দিতে দেরি করে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান বেতন-ভাতা ঈদের পর পর্যন্ত ঘুরায়। সুযোগ পেলে না দেওয়ারও পাঁয়তারা করে। একজন শ্রমিক আশায় থাকেন অন্যদের মত ঈদের আগে তাঁর কর্মক্ষেত্র থেকে বেতন-বোনাস পাবেন। কিন্তু ওই কর্মীকে ঈদের আগে আন্দোলন করতে হয় বেতন-বোনাসের জন্য।
তেমনি বকেয়া বেতন ও আসন্ন ঈদুল ফিতরের বেতন-বোনাস নিয়ে শঙ্কায় পড়েছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের বেকা গার্মেন্ট অ্যান্ড টেক্সটাইলের শ্রমিকরা। বুধবার (১৩ এপ্রিল) তারা বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বকেয়া বেতনের দাবিতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের বেকা গার্মেন্ট অ্যান্ড টেক্সটাইলের শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন। তাদের এই বিক্ষোভ কর্মসূচি সকাল ৮টার দিকে আদমজী-চাষাঢ়া সড়ক অবরোধের মাধ্যমে শুরু হয়। পরে ১০টার দিকে আদমজী ইপিজেডে বেপজার সামনে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। দুপুর ১টা পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলমান থাকে।
আন্দোলনের কারণ জানতে চাইলে এক শ্রমিক জানান, বেকা গার্মেন্ট অ্যান্ড টেক্সটাইল ৩ মাস ধরে আমাদের বেতন বকেয়া রেখেছে। আজ আমাদের বকেয়া বেতন দেয়ার কথা ছিলো কিন্তু এসে দেখি মালিকপক্ষ তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে। এ সময় তিনি দাবি জানান, ২০ রমজানের পূর্বেই যেন তাদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস তাদেরকে বুঝিয়ে দেয়া হয়।
আমিনুল নামের আরেকজন বলেন, দীর্ঘদিন যাবত আমরা কোন বেতন পাচ্ছিনা। একদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম লাগামহীন, অন্যদিকে রমজান এবং সামনে ঈদ। এমন পরিস্থিতিতে আমরা দিশেহারা। কি করবো বুঝতে কিছুই বুঝতে পারছিনা।
এ বিষয়ে বেপজার জিএম মোহাম্মদ আহসান কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিষয়টি সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছেন আমাদের। যদি তারা কমিটমেন্ট না রাখেন তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
নারায়ণগঞ্জ শিল্প পুলিশের (অঞ্চল ৪) পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, শ্রমিকরা যেন কোনো প্রকার ভায়োলেন্স না করে সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে তাদের তিন মাসের পাওনা বেতন আদায় করার ব্যাপারে আমরা প্রচেষ্টা চালাছি।



