
আনোয়ারুল ইসলাম (২২) কে নগদ ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাল বেতনে সরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১২ এপ্রিল অপহরণ চক্রের সদস্য মতিয়ার রহমান ভুক্তভোগীকে নিয়োগপত্র দেওয়ার কথা বলে ঢাকায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর বাবা তার ছেলের সাথে যোগাযোগ করতে গেলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পায়।
এ দিন বিকেলে তার বাবার মোবাইলে ছেলেকে অপহরণ করার কথা যানায় মতিয়ার। এ সময় মুক্তিপণ চাওয়া হয় ১ লাখ টাকা। অন্যথায় তারা তাকে প্রাণে মেরে ফেলবে এবং তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ অন্যত্র বিক্রি করে দেবে। র্যাব ৪ এর কাছে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগীর বাবা।
পরবর্তীতে, ভিকটিমকে উদ্ধারে অভিযানে নামে র্যাব ৪ এর চৌকস আভিযানিক দল। ১৩ এপ্রিল বুধবার রাজধানীর পল্টন থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করে র্যাব। এ সময় ৪ অপহরণকারীকেও গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো, আরিফুল ইসলাম মাসুম (৪৪), রেফাজুল ইসলাম লিংকন (২৭), মতিয়ার রহমান (৫০), মজিবর রহমান (৫২)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, তারা একে অপরের পূর্ব পরিচিত। তারা পরস্পর যোগসাজসে প্রথমে দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষিত বেকার যুব সমাজকে টার্গেট করে তাদের সাথে কৌশলে সখ্যতা তৈরি করে এবং ভুক্তভোগীদেরকে নগদ অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানে ভাল বেতনে চাকুরীর প্রলোভন দেখায়। এতে অনেক চাকুরী প্রত্যাশী বেকার লোকজন তাদের কথা সরল মনে বিশ্বাস করে তাদের দেওয়া প্রস্তাবে রাজী হয়।
বেকারদের সরলতার সুযোগ নিয়ে আসামীরা সুকৌশলে নিয়োগপত্র দেয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীদেরকে তাদের সুবিধাজনক স্থানে আসতে বলে। নিয়োগপত্র পাওয়ার আশায় ভুক্তভোগীরা সেখানে গেলে আসামীরা তাদেরকে আটকে রেখে মারধরসহ বিভিন্ন অমানবিক নির্যাতন চালায় এবং তাদের পরিবারের নিকট মোবাইল করে মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন এবং এই ধরনের অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে জোড়ালো অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে র্যাব।


