
দোহারের মাঝিরচর থেকে নারিশা বাজার হয়ে মোকসেদপুর পর্যন্ত পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ। এসময় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারী শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, এমপি তার সাথে উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার(১৬এপ্রিল) সকালে প্রকল্প এলাকায় পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় কাজের অগ্রগতি দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পদ্মা সেতুর উজানে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলাধীন মাঝিরচর থেকে নারিশা বাজার হয়ে মোকসেদপুর পর্যন্ত পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এর অধীন ২৫ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করছে ।
প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর একনেকে অনুমোদিত হলে ২০১৯ সালের এপ্রিলে ২৫ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন কর্তৃক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হয়।
প্রকল্পের মূল কাজ দু’টি হলো- দোহারে পদ্মা নদীর বাম তীর ঘেঁষে ৬ কিঃমিঃ বাঁধ প্রতিরক্ষা এবং ১২.২০ কিঃ মিঃ ড্রেজিং।
এরমধ্যে অতি অল্পসময়েই ২৫ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টায় ৬ কিঃ মিঃ এলাকায় জিওব্যাগ ডাম্পিং ও প্লেসিং এর মাধ্যমে দোহার এলাকাকে পদ্মার ভাঙ্গন হতে রক্ষা করা হয়েছে। সেই সাথে ৬ কিঃ মিঃ স্থায়ী বাঁধ প্রতিরক্ষা কাজের ৩.৪৮ কিঃ মিঃ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। অবিশিষ্ট ২.৫২ কিঃমিঃ স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজ এখনো চলমান রয়েছে।
এছাড়াও, আইডব্লিউএম এর হাইড্রোলজিক্যাল ও মরফোলজিক্যাল স্টাডির সুপারিশ মোতাবেক গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখ হতে ১২.২০ কিঃমিঃ ড্রেজিং কাজ শুরু হয়। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের পূর্বেই প্রকল্পের ৫০% ড্রেজিং কাজ সম্পন্ন করা হবে। অবশিষ্ট ৫০% কাজ আগামী ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে বর্ষা মৌসুমের পূর্বেই সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যায়।
আইডব্লিউএম এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওরাঙ্গবাদ হতে শাইনপুকুর পর্যন্ত ১৯.২০ কিঃমিঃ প্রিকশনারী নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজ আরডিপিপি’তে নতুন করে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে যা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আগামী ২০২৪ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সাথে কাজ করে চলেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দৃঢ়প্রত্যয়ী সেনাসদস্যগণ।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দোহারে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পথ সুগম হবে এবং এই অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।



