

নিজস্ব প্রতিবেদক:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি, যুদ্ধে বিশ্বাস করি না। আমাদের পররাষ্ট্রনীতি অত্যন্ত স্পষ্ট—সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। কিন্তু যদি কখনো আমরা আক্রান্ত হই তাহলে নিজের দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য সেই দক্ষতা আমাদের অর্জন করতে হবে।
।
নতুন এ বিমান প্রসঙ্গে সরকার প্রধান বলেন, এটা আমরা জার্মানি থেকে সংগ্রহ করেছি। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও কয়েকটি গ্রোব জি-১২০ প্রশিক্ষণ বিমান এই বাহিনীতে যুক্ত হবে, সে প্রক্রিয়া চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমান বাহিনীর সদস্যদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা নেওয়াতে আমি মনে করি আমাদের বিমান বাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষ ও সুপ্রশিক্ষিত হবে।
তিনি বলেন, শুধু আমাদের দেশ না, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও শান্তি রক্ষায় আমাদের বিমান বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করছে তারা। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সেখানে ভূমিকা রাখছে। কাজেই আমি মনে করি, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তাদের কাজ করতে হয়; সে জন্য আমাদের বৈমানিক, সেনা সদস্যদের প্রত্যেকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ট্রেনিং পাক—সেটার ওপর আমি সব সময় গুরুত্ব দিই।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিমান বাহিনীতে আরও কিছু নতুন বিষয় যুক্ত করবো। খুব শিগগিরই বিমান বাহিনীতে যুক্ত হতে যাচ্ছে, ইয়ার ডিফেন্ড সিস্টেম, ইন্ট্রেগেশন সিস্টেম, অ্যাটাক হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম।
সরকারপ্রধান বলেন, শুধু প্রশিক্ষণ নয়, প্রশিক্ষণের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি ও শিল্পায়নের সমন্বয়ে শিল্পনির্ভর জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশের জন্য বিমান বাহিনীর যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে, তার জন্য বিমান বাহিনী প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
বিমান বাহিনী জন্মলগ্ন থেকেই বিভিন্ন সময় দেশ ও জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সেটা নিঃসন্দেহে ধন্যবাদ এবং প্রশংসার দাবি রাখে। শুধু যুদ্ধের চিন্তাই না, বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণেও বিমান বাহিনী যথেষ্ট কাজ করে যাচ্ছে। যখন কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়, আর্তমানবতার সেবায় আপনারা কাজ করে থাকেন। শুধু তাই না, এবার করোনাভাইরাসে যেভাবে সারাদেশে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছিল, সেই অসুস্থ মানুষদের নিয়ে আসা এবং তাদের চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট অবদান রেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরেই বিমান বাহিনী গড়ে উঠে। তবে ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের সময় বিমান বাহিনীতে ঘটে যাওয়া ক্যু ধ্বংস করেছিলো এই প্রতিষ্ঠানকে। কিন্তু ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বিমান বাহিনীকে নতুন করে গড়ে তোলে।


