
বাঁধ ভেঙে একের পর এক হাওর তলিয়ে যাচ্ছে। গত ১৭ দিনে দেশের কমপক্ষে ১৭ টি হাওরের ৭ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমির ধান তলিয়ে গেছে। সবশেষ রোববার বিকেলে তাহিরপুর উপজেলার গুরমার হাওরের বাঁধ ভেঙে গলগলিয়া হাওরের প্রায় ৩০০ হেক্টর ও রাতে দিরাই উপজেলার হুরামন্দিরা হাওরের বাঁধ ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে ৩০০ হেক্টর জমির ফসল।
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, দিরাইয়ে হুরামন্দিরা হাওরে ১০০০ হেক্টর জমি রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৭০০ হেক্টরের বোরো ধান কেটেছেন কৃষক। সন্ধ্যায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ৩০০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, হাওরে জমির পরিমাণ আরও বেশি। কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য সঠিক নয়। বাঁধ ভাঙার ফলে ৩০০ হেক্টরের বেশি জমি তলিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন তারা।
সকাল থেকে তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওর সংলগ্ন কান্দা উপচে পানি হাওরে প্রবেশ করে। পরে বিকেলে বাঁধটি ভেঙে তলিয়ে যায় ছোট-বড় কয়েকটি হাওরের পাকা ও আধা পাকা ধান। এ ছাড়া হুমকির মুখে রয়েছে আরও কয়েকটি হাওরের বাঁধ।
জানা যায়, সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলায় ৪২টি হাওরে এবার দুই লাখ ২২ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমি চাষাবাদ হয়েছে। এসব জমির ফসলরক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ১২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৩৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত করেছে।
নিয়ম অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারি বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ১০ দিন সময় বৃদ্ধি করেও কাজ শেষ হয়নি।
কৃষকদের অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। গত ২ এপ্রিল সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালী বাঁধটি প্রথম ভেঙে যায়। এরপর ধর্মপাশার চন্দ্রসোনার থাল, দিরাইয়ের চাপতির হাওরসহ জেলার ছয়টি উপজেলার অন্তত ১৫টি হাওরের ৭ হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। যদিও প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের দাবি তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ ৫ হাজার হেক্টর।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। আমি সকলের কাছে অনুরোধ জানাই দল মত নির্বিশেষে আমরা কৃষকের পাশে দাঁড়াই।


