

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী-ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষে রক্ষা পায়নি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও। মঙ্গলবার সকালে একটি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দিকে চন্দ্রিমা মার্কেটের সামনে গেলে হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যাপক ভাংচুরের শিকার হয়।
মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) সকাল থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটারি, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত ও তার আশপাশের এলাকা দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। রাতভর সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে আবারও ঢাকা কলেজের মেইন গেটের সামনে আবারও এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তেই পুরো এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ, দফায় দফায় চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। ঘটে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও। রড-লাঠি-ক্রিকেট স্ট্যাম্পসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হেলমেট পরিহিত অবস্থায় মারধর করতে দেখা যায় বেশ কয়েকজনকে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে ত্রিমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় একশ রাবার বুলেট ছুঁড়ে পুলিশ। গুলি ছোঁড়ারও অভিযোগ করে ছাত্ররা, যদিও পুলিশ সে অভিযোগ অস্বীকার করে। রাতের সংঘর্ষ ভোরের দিকে পুলিশ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে ঢাকা কলেজের কমপক্ষে ৩৫ জন ছাত্র আহত হন। এছাড়া ব্যবসায়ী-সাংবাদিকসহ কমপক্ষে আরও ২০ জন আহত হয়েছেন। ঢাকা কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ড. মো. আবদুল কুদ্দুস সিকদার জানান, সংঘর্ষে ঢাকা কলেজের ৩৫ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ী পক্ষের ১০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তারা। এছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষের মধ্যে কমপক্ষে ৯ জন সাংবাদিক আহত হয়েছে। এর মধ্যে সময় টেলিভিশনের ৬ জন সংবাদকর্মী, দীপ্ত টিভির প্রতিবেদক আসিফ সুমিত এবং এসএ টিভির ক্যামেরা পারসন কবির হোসেন গুরুতর আহত হন।
সংঘর্ষ চলাকালে চন্দ্রিমা মার্কেটের তিন তলায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। সে আগুন নিভিয়ে ফেলার পর নুরজাহান মার্কেটেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। তবে এ অগ্নিকাণ্ড ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হয়েছে কিনা, নাকি নেহায়েত দুর্ঘটনা সে বিষয়ে কোন তথ্য জানা যায়নি।
সংঘর্ষের ঘটনায় নিউমার্কেটের সকল দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। সাধারণত মঙ্গলবার নিউ মার্কেট এলাকায় সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। তবে রমজান উপলক্ষে চাঁদ রাত পর্যন্ত প্রতিদিনই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখার ঘোষণা দিয়েছিল ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি সায়েন্সল্যাব থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত সব ধরনের দোকানপাটও বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা, উপশাখা ও এটিএম বুথসহ সব ধরনের প্রতিষ্ঠান।


