

নিজস্ব প্রতিবেদক:রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় আফরোজা সুলতানাকে (৩২) গলা কেটে হত্যা করেন তারই গাড়িচালক। শুধুমাত্র স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটান তিনি।
বুধবার (১৬ মার্চ) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ভিকটিমের গাড়িচালক মো. হৃদয় বেপারী (৩৪) এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। সে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিল। তার বাসা ভাড়া বাকি পড়ে যায়। সে ধারণা করে তার ম্যাডামের কাছে অনেক টাকা ও স্বর্ণালংকার আছে। কারণ সে প্রায়ই দেখত ভিকটিম আফরোজা সুলতানা বিভিন্ন ব্যাংকে টাকা জমা দিতেন। ওই টাকার লোভেই হৃদয় হত্যাকাণ্ডটি ঘটায়।
ডিবি প্রধান বলেন, রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে নিহত আফরোজার গাড়িচালক হৃদয়কে গ্রেফতার করা হয়।
হৃদয় বেপারীর দেওয়া তথ্যে পাশের নির্মাণাধীন ভবনের ফাঁকা জায়গা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও হৃদয়ের বাসার পাশে বালুর নিচে লুকিয়ে রাখা চুরি করা স্বর্ণালংকারসহ সংশ্লিষ্ট আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। মূলত অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্যই তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
আফরোজা সুলতানা রাজধানীর গুলশান ২ নম্বরে সেভেন সার্কেল বাংলাদেশ লিমিটেড এমআইএস ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মাত্র দু’মাস আগে গত জানুয়ারিতে বিয়ে করে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার একটি বাসায় উঠেছিলেন আয়ান-আফরোজা দম্পতি। আফরোজার স্বামীও একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
গত ১৩ মার্চ ওই বাসার সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গাড়িতে করে বাসায় ফেরেন আফরোজা। লিফট দিয়ে উঠে যান দোতলার নিজ ফ্ল্যাটে। কিছুক্ষণ পর গাড়িচালক হৃদয় বেপারী উপরে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পর তাকে নিচে নেমে আসতে দেখা যায়। এর ১৫-২০ মিনিট পরই বাসায় ফিরে বাথরুমে স্ত্রী আফরোজার গলাকাটা মরদেহ আবিষ্কার করেন আয়ান।



