

রোজার মধ্যে পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারে মূল্য তালিকার চেয়ে বেশি দামে মসলা বিক্রি করায় তিনটি পাইকারী দোকানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে মৌলভীবাজারের পাইকারী মশলার বাজারে অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিকাশ চন্দ্র দাস। অভিযানে আরো ছিলেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও ঢাকা জেলা কার্যালয়ের প্রধান মো. আব্দুল জব্বার মন্ডল।
অভিযানে দেখা যায়, মৌলভীবাজারের পাইকারী মসলার দোকানগুলোতে মূল্য তালিকার থেকে বেশি দামে মসলা বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া একই মসলার বিভিন্ন ধরণ থাকলেও মূল্য তালিকায় দাম দেওয়া আছে একটির। তাই তিনটি দোকানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে দুটি দোকানকে ১০ হাজার করে ২০ হাজার এবং একটি দোকানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান শেষে অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিকাশ চন্দ্র দাস বলেন, আমরা এখানে অনেক দোকানে মূল্য তালিকা পাইনি। আবার অনেক দোকানে ঘোষিত মূল্য তালিকার সঙ্গে বিক্রয় মূল্যের মিল পাইনি। এছাড়া তারা ক্রয় রশিদ বা ছোতা সংরক্ষণ করছেন না। এজন্য আমরা আজকে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সতর্কতামূলক জরিমানা করেছি। পাশাপাশি তাদের সতর্ক করেছি যেন তারা অবশ্যই ক্রয় রশিদ সংরক্ষণ করেন, ঘোষিত মূল্যের থেকে বেশি দামে যেন পণ্য বিক্রি না করেন।
এ সময় অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও ঢাকা জেলা কার্যালয়ের প্রধান মো. আব্দুল জব্বার মন্ডল ব্যবসায়ীদের নিয়মিত পণ্যের মূল্য তালিকা হালনাগাদ এবং পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে পাকা রশিদ সংরক্ষণ করার আহ্বান জানান।
তবে বিক্রেতাদের দাবি, তাদের মূল্য তালিকায় পাইকারি দাম দেওয়া আছে। সেই দামেই তারা পাইকারি বিক্রি করছেন। তবে খুচরা বিক্রির ক্ষেত্রে তারা কিছুটা বাড়তি দাম রাখছেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পাইকারী মশলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুল হক বলেন, পণ্যের দাম সকাল বিকাল উঠানামা করে। অনেক সময় পণ্যের দাম সকালে যেটা থাকে বিকালে সেটা কমে যায়। তখন বিক্রেতারা সব সময় সেটা মূল্য তালিকায় ঠিক করার সময় পান না বা ভুলে যান। তাই এই বিষয়ে একটু সহনশীল হওয়ার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।


