
আগামী জুন মাসে পদ্মা সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে শেষ পর্যায়ের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এই সেতু চালু হলে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াত সহজ হবে, সময়ও কমবে। তবে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘতম এই সেতু পার হতে লাগবে বড় অঙ্কের টোল। পদ্মা সেতুতে প্রস্তাবিত টোলহার কার্যকর হলে বড় বাসে ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং মাঝারি ট্রাকে লাগবে ২ হাজার ৮০০ টাকা।
সেতু বিভাগের নির্ধারিত টোলের হার অনুসারে , বর্তমানে ফেরিতে পদ্মা নদী পার হতে যে টাকা লাগে, সেতু পার হতে এর চেয়ে গড়ে দেড় গুণ বেশি টাকা খরচ করতে হবে। আর দ্বিতীয় দীর্ঘতম বঙ্গবন্ধু সেতুর টোলের সঙ্গে তুলনা করলে তা হবে প্রায় দ্বিগুণ।
ফেরিতে যানবাহনভেদে বর্তমানে ভাড়া দিতে হয় ৭০ থেকে ৩ হাজার ৯৪০ টাকা। অপরদিকে, প্রস্তাব অনুযায়ী পদ্মা সেতুতে যানবাহনভেদে টোল দিতে হবে ১০০ থেকে ৬ হাজার টাকার বেশি। এক্ষেত্রে কার ও জিপের টোল ৭৫০ টাকা (ফেরিতে ৫০০ টাকা), বড় বাসে ২ হাজার ৪০০ টাকা (ফেরিতে ১ হাজার ৫৮০ টাকা), মাঝারি ট্রাকে ২ হাজার ৮০০ টাকা (ফেরিতে ১ হাজার ৮৫০ টাকা)।
এ বছরের জুন মাসে পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে যান চলাচল করবে এ উদ্দেশ্যে টোল আদায়কারী ও সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোরিয়া এক্সপ্রেস করপোরেশন (কেইসি) ও চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে (এমবিইসি) ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সেতু বিভাগ। আগামী ৫ বছরের জন্য এ দুটি প্রতিষ্ঠানকে টোল আদায় ও সেতু রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এজন্য তাদেরকে মোট ৬৯৩ কোটি টাকা দিতে হবে।
সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে হয়তো সেতু চালু করে দেওয়া হবে। তবে টোল আদায় শুরু হবে আগামী ১ জুলাই থেকে । এজন্য কেইসি ও এমবিইসিকে চিঠি দিয়েছে সেতু বিভাগ।
সেতু বিভাগের যুগ্ম সচিব রাহিমা আক্তার জানান, আমরা টোলহারের যে প্রস্তাব তৈরি করেছি তা এ মাস বা আগামী মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাবো। খসড়া যে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে, তা কমানোর সম্ভাবনা কম বলেও জানান তিনি।


