
ঈদকে সামনে রেখে ১২’শ টাকার পাঞ্জাবী বিক্রি করা হচ্ছে ২১০০ টাকায়। এলিফ্যান্ট রোডের সাইন্সল্যাব মোড়ে অবস্থিত লংলা নামের দোকান থেকে রেজওয়ানা আক্তার বন্যা নামে এক নারী তার স্বামীর জন্য ২১’শ টাকা দিয়ে পাঞ্জাবী কেনেন। সেটি বাসায় নেয়ার পর প্রাইজ ট্যাগের নিচে আরেকটি প্রাইজ ট্যাগ দেখতে পান, এতে দাম লেখা ছিল ১২’শ টাকা।
এরপর ক্ষুব্ধ ওই নারী জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করেন। তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) লংলায় অভিযান চালায় অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। এ সময় অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। যার চার ভাগের একভাগ অভিযোগকারী ভুক্তভোগী নারীকে দেয়া হবে।
এছাড়াও জাল ট্যাগে দাম বেশি নেয়া এবং অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রির অভিযোগে ধানমন্ডির শংকর এলাকায় আরও চারটি প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে ধানমন্ডি-৫ এর শংকর এলাকার স্টার ওয়ার্ল্ডকে, প্রাইম কালেকশনকে, আলমাসকে ৫০০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
আর প্রিয় শপকে ১৯ হাজার ৫০০ টাকায় শার্ট বিক্রি ও বিদেশ থেকে শার্টগুলো আনতে কোন ধরণের ট্যাক্স না দেয়ায় এবং নিজেরা ট্যাগ মেশিন দিয়ে দাম বসানোয় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ট্যাগ মেশিনটি জব্দ করা হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, মূলত আজকের অভিযানটি একটি ভোক্তভোগীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালনা করা হয়েছে। ওই নারী নিজের স্বামীর জন্য পাঞ্জাবী কিনেছিলেন ২১’শ টাকা দিয়ে। সেটি বাসায় নেয়ার পর মূল্যের ট্যাগের নিচে আরও একটি ট্যাগ দেখতে পান। সেখানে দাম লেখা ছিল ১২০০ টাকা। পরবর্তীতে ওই মহিলা আমাদের কাছে অভিযোগ দিলে ঘটনার সত্যতা পেয়ে লংলা নামের দোকানটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, যার চার ভাগের একভাগ ভুক্তভোগীকে দেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ললাং ছাড়াও আরও চারটি দোকানকে বিভিন্ন কারণে জরিমানা করা হয়েছে। যাদের মূল সমস্যা হল- দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি, ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি, অনুমোদন ছাড়া চোরাই পথে পণ্য এনে বিক্রি। তাদের এসব কাজের প্রভাব দেশের অর্থনীতিসহ জনজীবনেও পড়ছে।
ভোক্তভোগী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, আমরা যারা মধ্যবিত্ত পরিবারের তারা খুব কষ্টে একটু ভালো থাকার চেষ্টা করি। কিন্তু যখন দেখি আমাদের ঠকিয়ে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করছেন তা আমাদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক। যার ফলে আমি অভিযোগ করতে বাধ্য হয়েছি।


