
অনেক দিন যাবৎ সয়াবিন তেল নিয়ে তেলেসমাতি চলছে দেশজুড়ে। কখনও তেলের দাম বাড়ে, কিছুটা কমে আবার দাম বাড়ে, কখনও আবার বাজার থেকে উধাও সয়াবিন তেল।
দোকানদারদের অভিযোগ, সংকটের দোহাই দিয়ে তেলের সাথে বাধ্যতামূলকভাবে অন্য পণ্য জুড়ে দিচ্ছে কোম্পানিগুলো। এদিকে ক্রেতারা বলছেন, সংকটের মাঝেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে খোলা সয়াবিন তেল। তবে নিম্নবিত্তদের চাওয়া তেল নিয়ে চলমান অস্থিরতা দ্রুত নিরসন না হলে চরম বিপাকে পড়বেন তারা।
মাসুদ নামে একজন ক্রেতা সয়াবিন তেলের জন্য ঘুরেছেন বাজারে কিন্তু তেল মেলেনি তার ভাগ্যে। উপায় না পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন সরিষার তেল কিনে। মাসুদের মত এমন ভোগান্তির শিকার অনেকেই, সয়াবিন না পেয়ে কিনছেন সরিষার তেল।
বিশ্ব বাজারে এক বছর ধরেই তেলসহ নিত্যপণ্যের অনেক কিছুর দাম বাড়তির দিকেই ছিল। বিশেষ করে ২০২০ সালের শেষ দিকে এসে সারা বিশ্বেই এই প্রবণতা দেখা যায়।
তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়। এই দুটি দেশ থেকে তেল সরবরাহে ঘাটতি হওয়ায় ব্যাপক চাপ পড়ে পাম ও সয়াবিন তেলের ওপর।
এমন পরিস্থিতিতে পাম তেলের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া গত ২৮শে এপ্রিল পাম তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেয়।
দেশে সয়াবিন তেলের মূল্য রেকর্ড ভেঙে লিটার প্রতি ১৯৮ টাকা ধার্য করা হয়। এরপর থেকেই ভোক্তা পর্যায়ে ক্ষোভ আর অসন্তোষ দেখা যায় চরমে। তবে বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ব বাজারে দামের রেকর্ড হওয়ার কারণেই এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া নতুন দাম অনুযায়ী খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটারের দাম এখন ১৮০ টাকা, যা এতদিন ১৪০ টাকা ছিল। পরিশোধিত পাম সুপার তেল প্রতি লিটারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৭২ টাকা, যা এতদিন ছিল ১৩০ টাকা।


