
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে গ্রেপ্তার এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার হালদারের (পিকে হালদার) বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সকল মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (১৭ মে) পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে জারি করা রুল শুনানিতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) এই নির্দেশ দেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ।
এছাড়া পি কে হালদার পাচারকৃত টাকা কোন কোন দেশে রেখেছেন সেই বিষয়েও দুদকের কাছে জানতে চেয়েছেন আদালত।
এদিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন এবং দুদকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।
শুনানিকালে আদালত বলেন, পি কে হালদার আজ সারাবিশ্বে অর্থপাচারকারী হিসেবে পরিচিত। এটি হাইকোর্টের বিভিন্ন আদেশের কারণে হয়েছে। আমরা এমন আদেশ দেব যে, পি কে হালদার ও তার মতো অর্থপাচারকারীরা কোথাও শান্তিতে থাকতে পারবে না।
এ সময় আদালত রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের আইনজীবীদের বলেন, আপনারা খোঁজ নিয়ে তথ্য দেন অর্থ পাচারকারীরা কোথায় আছে, পি কে হালদারের পাচারকৃত অর্থ কোন কোন দেশে আছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
পরে পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনা সংক্রান্ত রুল শুনানির জন্য আগামী ১২ জুন দিন ধার্য করেন আদালত।
প্রায় দেড় বছর আগে পি কে হালদারকে গ্রেপ্তার ও দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। সেই রুলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগেই গত শনিবার (১৪ মে) তাকে গ্রেপ্তার করে ভারতের অর্থ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেটের (ইডি)। দেশটির পশ্চিমবঙ্গের অশোক নগরের একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শিবশংকর হালদার নামে ভারতে বসবাস করছিলেন প্রায় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করে পালিয়ে যাওয়া পি কে হালদার। তিনি এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এই অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার করেন। তাকে গ্রেপ্তারে রেড এলার্টও জারি করেছিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)।
শনিবার গ্রেপ্তারের পর পি কে হালদারকে তার চার সহযোগীসহ তিনদিনের রিমান্ডে নেয় ইডি। আজ মঙ্গলবার (১৭ মে) রিমান্ড শেষ হওয়ায় তাকে ফের আদালতে তোলা হয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে।


