রমজান আসতে এখনও বাকি দুই সপ্তাহ। অথচ এরই মধ্যে বাজারে বাড়তে শুরু করেছে ইফতারের মূল উপাদান খেজুরের দাম।

রমজানকে সামনে রেখে খেজুরের বাজার এখন জমজমাট। কেউ বিক্রি করছেন ভ্যানে করে। আবার কেউ বিক্রি করছেন নিজের দোকানে। এখন এমন কোনো স্থান নেই যে, খেজুর পাওয়া যাচ্ছে না।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েকদিনে খেজুরের দাম মান অনুযায়ী কেজিতে ১০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে।

citytouch 728-X-90

বর্তমানে বাজারে হরেক রকম খেজুর পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- আম্বার, কালমি, মরিয়ম, শুককারি, ছড়া, বাটি, ছক্কা, কাউন দাবাস, সুগাই, গাওয়া, তিনপল, মাজদুল, জিদাহি, সায়ের, মাসরুক, আদম, ম্যাকজুয়েল, মাবরুল ইত্যাদি।

দেশের সবচেয়ে বড় ফলের বাজার পুরান ঢাকার বাদামতলীর ফল ব্যবসায়ীরা জানান, এখানে ১ কেজির এক কার্টন নাগাল খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৪৫০ টাকায়, যা কয়েকদিন আগে ছিল ১ হাজার ৩৫০ টাকার মধ্যে। আবার ১০ কেজির এক কার্টন খালাস খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকায়, যা কিছুদিন আগে ছিল ১ হাজার ১৫০ টাকা।

পাঁচ কেজির কিমি খেজুরের কার্টন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। আবার কোথাও কোথাও এর চেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। দাবাস ১০ কেজির কার্টন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। আর পাঁচ কেজির কার্টন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকায়। অর্থাৎ সব ধরনের খেজুরের দাম বেড়েছে। ১ কেজির জিহাদি খেজুর ১ হাজার ৩০ থেকে ৫০ টাকা, সায়েব ১ হাজার ৫০, মাসরুর ১ হাজার ৯০০ টাকা, কালমি ১ হাজার ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, আজওয়া ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কয়েকজন পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন বাদামতলীতে বেশি বিক্রি হচ্ছে ম্যাকজুয়েল খেজুর। আর এই খেজুরের দাম পাঁচ কেজির কার্টন সাড়ে ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা। এসব খেজুরের চাহিদা সব আভিজাত এলাকায় রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন করপোরেট অফিসেও এই খেজুরের চাহিদা থাকে।

বাদামতলীর ফল ব্যবসায়ী সমিতির নেতা হাজী সিরাজুল ইসলাম জানান, খেজুরের দাম বেড়েছে তা মোটেই সত্য নয়। কারণ চাহিদার অনুপাতে খেজুরের সরবরাহ রয়েছে বেশি। বাজারে খেজুরের কোনো ঘাটতি নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুদ রয়েছে। রোজার মাসে প্রত্যেকে সহনীয় দামে খেজুর পাবেন, সে প্রত্যশা করছি।