

গাজীপুরে দাম্পত্য কলহের জেরে পারুল আক্তার( ৩৫) নামের এক নারীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী শান্ত মল্লিককে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। বিদেশে চাকরির কষ্টার্জিত টাকা নষ্টের প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তিনি।
রোববার (২০ মার্চ) সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. খায়রুল আমিন।
এর আগে শরিয়তপুরের পালং থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শান্তকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির এলআইসি শাখা। শান্ত ওই থানার চিতলিয়া গ্রামের মো. নুরুল হক মল্লিকের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. খায়রুল আমিন জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন দাড়াইই গ্রামের মনু মাতবর পুকুর সংলগ্ন টিনের ঘরে স্বামীর হাতে খুন হন পারুল। এই ঘটনায় গত ১ মার্চ ভুক্তভোগীর বাবা আলী আহম্মদ বাদি হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় শান্তর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি ছায়া তদন্ত শুরু করে সিআইডির এলআইসি শাখা। তারই প্রেক্ষিতে শরিয়তপুরে অভিযান চালিয়ে শান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
খায়রুল আমিন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত শান্ত জানায় পারুল প্রায় সাত বছর জর্ডানে চাকরি করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে দাড়াইল এলাকায় নিজ নামে জমি কিনে এবং বাড়ি করে সেখানে বসবাস করছিল। জর্ডানে থাকাকালীন পারুলের সঙ্গে শান্তর বোন তামান্নার সুসম্পর্ক তৈরি হয়। সেই সুবাদে শান্তর সঙ্গে পারুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং প্রায় সাত মাস আগে দুই লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর শান্ত বিদেশ যাওয়ার কথা বলে পারুলের কাছ থেকে এক লাখ নগদ টাকা এবং পাঁচ ভরি স্বর্ণ নেয়। কিন্তু সেই টাকা শান্ত নেশা ও জুয়া খেলে শেষ করে ফেলে। কিছুদিন পর পারুল সেই টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।
সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও জানান, গত ২৮ তারিখ বেলা ১টার দিকে পারুল আবার তার কষ্টার্জিত অর্থের হিসাব চাইলে শান্তর সঙ্গে বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে শান্ত গলায় দড়ি পেঁচিয়ে পারুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং ঘরের দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যায়। শান্ত আগেও মাদক মামলায় জেল খেটেছে।



