

প্রথম দেখায় যে কেউই আশ্চর্য হয়ে যাবেন। একতলা বিশিষ্ট ফিটফাট আলিশান বাড়িটি দেখে মনে হবে এটি নিশ্চয়ই কোন অবসরপ্রাপ্ত বড় সরকারী কর্মকর্তা অথবা ব্যবসায়ীর বাড়ি।
একদিক থেকে কথাটি ঠিক। বাড়িটি একজন ব্যবসায়ীরই। কিন্তু পেশায় সে মাদক ব্যবসায়ী। লোকটির নাম বাছির মিয়া। তার এলাকার মানুষ তাকে চিনে 'স্মাগলার' বাছির হিসেবে। মাদক বিক্রির অবৈধ টাকায় এই প্রাসাদ গড়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিন পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইয়াবা বিক্রি করে আসছিল বাছির। কিন্তু কথায় আছে, দশদিন চোরের, একদিন গৃহস্থের। ছয় মাদক মামলায় জামিনে থাকা বাছির মিয়া পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও মাদক বিক্রিকালে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে তার ছেলে সুমন মিয়া (২৬) ও তার সহযোগী মো. সায়েম (২২)। এসময় পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে সুমন তার সঙ্গে থাকা ২২৭৮ পিস ইয়াবা বাসার টয়লেটে ফেলে দেয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয় না। পুলিশ অভিযান চালায় সেই টয়লেটে। সেখানকার কমোড থেকে উদ্ধার হয় সুমনের ফেলে দেওয়া ইয়াবা।
এই ঘটনা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নে নয়ামুড়া গ্রামের। মূলত বাবার সূত্র ধরেই ছেলে মাদক ব্যবসায় জড়িত হয়ে পড়েন। তবে বাছিরের ছেলে সুমন এই প্রথমবারের মতো পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে।
আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ইয়াবার একটি বড় চালান ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকার খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান চালায়় পুলিশের দু'টি দল। গোপন নজরদারিতে নিয়ে আসা হয় বাছিরের বাড়িটি। অভিযান চালানো বাছির মিয়া চিহ্নিত মাদককারবারি।



