

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভোজ্য তেল আমদানি কমিয়ে উৎপাদনে যেতে হবে। এ জন্য দেশেই সয়াবিন, সূর্যমুখী, বাদামসহ বিভিন্ন তৈলবীজের উৎপাদন বাড়াতে হবে।
মঙ্গলবার (২২ মার্চ) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ভোজ্যতেল আমদানি কমিয়ে উৎপাদনে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে তৈল বীজ উৎপাদনে আরও গবেষণা করতে হবে। এজন্য কৃষকদের উৎসাহ দিতে হবে।
তিনি বলেন, মূলত ভোজ্যতেল আমদানি কমিয়ে দেশেই সয়াবিন, সূর্যমুখী, বাদামসহ বিভিন্ন তৈলবীজ উৎপাদন বাড়াতে একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী অনুশাসন দিয়েছেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর অন্য অনুশাসনের কথা তুলে ধরে বলেন, এখন থেকে বাংলাদেশের কোথাও নতুন সেতু তৈরি হলে তার নিচ দিয়ে নৌকা চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এছাড়া সৈয়দপুর ও চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর রেলওয়ে কারখানার সক্ষমতা বাড়াতে বলেছেন একনেক চেয়ারপারসন।
রেলে নিয়োগের কোটা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে এম এ মান্নান বলেন, রেলের লোকজন কাজ করে কিছু কোটা পায়। এ সম্মানটা দিলে তারা সম্মানিত হয়। রেলে যারা চাকরি করে তাদের পরিবারের জন্য চাকরিতে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কোটা সুবিধা দেওয়া যায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, একনেকের আজকের সভায় মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৫ হাজার ৭৪৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১১ হাজার ৬৭৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে ৪ হাজার ৬৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে বাকি টাকা ব্যয় করা হবে ।
একনেকে ‘বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বীজ বর্ধন খামার স্থাপন’ প্রকল্পটিতে ৪৩৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ফেনী অঞ্চলে বাদাম ভালো হয়। যেখানে তেল বীজ উৎপাদন করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সয়াবিন, সরিষা, তিল এবং চীনাবাদামসহ তেল বীজ উৎপাদনে যেতে হবে। প্রয়োজনে এটা আরও গবেষণা করে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।


