আমেরিকা অপরাধীদের জায়গা দিয়ে আমাদের নিষেধাজ্ঞা দেয়: প্রধানমন্ত্রী
হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া


র্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গর্হিত কাজ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা নিজেরা যুদ্ধাপরাধীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের আশ্রয় দিয়ে বিনা অপরাধে র্যাব সদস্যদের নিষেধাজ্ঞা দেয়।
শেখ হাসিনা বলেন, আমেরিকা তাদের দেশে বিনা কারণে মানুষ মারলে বিচার করে না। কিন্তু বিনা কারণে দেশের কোনো মানুষ হত্যা করলে কিংবা অপরাধে জড়ালে বাংলাদেশ তার বিচার করে৷ যা অন্য দেশ করে না। খুব সম্ভবত র্যাবের সাফল্যে দুঃখ পেয়েই তারা এমন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কি না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
সোমবার সকালে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের (র্যাব) ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুর্মিটোলা র্যাব সদর দপ্তরে শহীদ লে. কর্নেল আজাদ মেমোরিয়াল হলে এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, আমাদের দেশ নিয়ে বেশ কিছু অপরাধী বিভিন্ন সময় অপপ্রচার চালায়। বিভিন্ন সময় অপরাধের দায়ে যারা চাকরিচ্যুত হয়েছে তারাই দেশ নিয়ে চক্রান্ত করছে। শুধু তাই নয়, আমাদের যুদ্ধাপরাধীসহ জাতির পিতার খুনিরাও আমেরিকায় ঠাই পেয়েছে। বার বার এসব অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানালেও তারা তা করেনি। বিপরীতে এসব অপরাধীদের আমেরিকা নাগরিকত্ব দিয়েছে। এটাই যাদের চরিত্র, তাদের বিষয়ে আর কী বলবো?
এছাড়াও মাদক চোরাচালানসহ অপরাধ দমনে কক্সবাজারে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাটালিয়ন গঠন করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশ থেকে মাদক দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কোন কোন পথ দিয়ে দেশে মাদক প্রবেশ করে ইতোমধ্যে তা চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা সব সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন। একটাই লক্ষ্য ছিল, বাংলাদেশকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তুলবো। বঙ্গবন্ধু হত্যার ২১ বছর পরে হলেও বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা শুরু হয়। আজকের এই উন্নয়নে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানসহ র্যাবেরও বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। কারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেশের আইনশৃঙখলা রক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে র্যাবের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কর্মদক্ষতা ও পেশাদারত্ব এই বাহিনীকে ঈর্ষণীয় সাফল্য এনে দিয়েছে।
র্যাব মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।



