

রাজধানীর মহাখালীর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)। প্রতিষ্ঠানটির ডায়রিয়া হাসপাতালের সামনে কিছুক্ষণ পর পর এসে থামছে সিএনজি, রিকশা ও অ্যাম্বুল্যান্স। সেগুলোতে করে আসা প্রায় চলনশক্তিহীন রোগীদের নিয়ে ভেতরে যাচ্ছেন স্বজনরা। রোগীর অবস্থা দেখে প্রায় সবাইকেই ভর্তি করছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শয্যা খালি না থাকায় তাদের অনেককেই মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
এই চিত্র সোমবার (২৮ মার্চ) সকালের। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এভাবেই আইসিডিডিআর’বিতে ছুটে আসছেন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগিরা। প্রতিদিন রোগির চাপ বাড়তে থাকায় হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও দায়িত্বরতরা।
আইসিডিডিআর’বি কর্তৃপক্ষ বলছে, ১৯৬২ সালে কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এত রোগি আর দেখেননি তারা।
তাদের তথ্যমতে, প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ৫২ জন রোগি হাসপাতালটিতে ভর্তি হচ্ছে। রোববার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে মোট ৯৫৪ জন। এর আগের দিন শনিবার (২৭ মার্চ) ভর্তি হয়েছে এক হাজার ২৪৫ জন।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) নাজমুল ইসলাম জানান, গরমের কারণে রাজধানীসহ সারাদেশে প্রতিদিন বাড়ছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগির সংখ্যা। ডায়রিয়া আক্রান্ত হওয়ার পর শরীরে পানিশূণ্যতা ও দুর্বলতা দেখা দেওয়ায় রোগিদের হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে। এতে হাসপাতালগুলোতে চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই সময় ডায়রিয়ার হাত থেকে বাঁচতে সকলকে বিশুদ্ধ পানি পান এবং রান্নার কাজে সুপেয় পানির ব্যবহার নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন এই কর্মকর্তা।


