

সমুদ্র নগরীতে এখন শোনা যাবে ট্রেনের শব্দ। শনিবার (১১ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ট্রেনের হুঁইসেল বাজালে এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে কক্সবাজার রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে যায় ট্রেন। যেই ট্রেনের যাত্রী ছিলেন সরকারপ্রধান নিজেও। কক্সবাজার থেকে ট্রেনে করে রামুতে যান তিনি।এর আগে, দোহাজারী থেকে কক্সবাজারে নির্মিত নতুন রেলপথ ও কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। এরমধ্যে দিয়ে দেশের রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হলো সমুদ্রনগরী কক্সবাজার। ৪৮তম জেলা হিসেবে কক্সবাজার বাংলাদেশ রেলওয়ের নেটওয়ার্কে যুক্ত হলো। শনিবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে কক্সবাজারে এই রেলপথ ও কক্সবাজারের আইকনিক রেলস্টেশনের উদ্বোধন করা হয়।রেলপথের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকতে পেরে আমি সত্যিই খুব আনন্দিত। একটা কথা দিয়েছিলাম, কথাটা রাখলাম। আজকের দিনটি বাংলাদেশের জনগণের জন্য গর্বের দিন। কক্সবাজার এমন একটি সমুদ্র সৈকত, যেটা বিশ্বে বিরল। পৃথিবীতে এত দীর্ঘ বালুকাময় সমুদ্র সৈকত নেই। এই অঞ্চলের মানুষের দাবি ছিল, এই অঞ্চলকে রেল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করা। আজ এই স্বপ্ন পূরণ হলো।২০১০ সালের ৬ জুলাই দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। মেগা প্রকল্প হিসেবে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে টেন্ডার হলে দোহাজারী-চকরিয়া এবং চকরিয়া-কক্সবাজার (লট-১ ও লট-২) এই দুই লটে চীনা প্রতিষ্ঠান সিআরসি (চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন) ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান তমা কনসট্রাকশন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ পায়। কার্যাদেশ দেওয়ার পর ২০১৮ সালে এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। অনুমোদনের ১৩ বছর পর প্রকল্পটির উদ্বোধন হলো। পরবর্তীতে ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইনটি সম্প্রাসারণ করা হবে।এই রেললাইন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এর অর্থায়ন করেছে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকার।


