

২০২৩ সালে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংঘাতে দেশে কমপক্ষে ৪৫ জনের প্রাণহানি বলে দাবি করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। পাশাপাশি ৬ হাজার ৯৭৮ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি সংগঠনটির।রোববার (৩১ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে '২০২৩ সালে মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয় ভিত্তিক বিবরণ' শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় আসক। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন খবর পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ফারুখ ফয়সল অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এ সময় তিনি জানান, ২০২৩ সালে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংঘাতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪৫ জন এবং আহত হয়েছে অন্তত ৬ হাজার ৯৭৮ জন। অথচ রাজনীতি বা সংগঠন করার অধিকার এবং শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ বা সভা-সমাবেশ আয়োজন একটি সংবিধানসম্মত অধিকার। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য বাংলাদেশে এ অধিকারচর্চার ক্ষেত্র ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে।সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সংবিধানস্বীকৃত এ অধিকার নির্বিঘ্নে চর্চা নিশ্চিত করাই হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব, অথচ তাদের দ্বারাই সভা-সমাবেশ ও র্যালিতে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ হচ্ছে। অন্যদিকে জনগণকে জিম্মি করে বাসে-ট্রেনে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা এবং রেললাইন কেটে নাশকতা সৃষ্টি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে পারে না।আরও বলা হয়, চলতি বছরে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা, গায়েবি মামলা, হামলা, গণগ্রেপ্তার, পরিবহন ধর্মঘট ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। ফলে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি জনদুর্ভোগও তীব্রতর হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আইন ও সালিশ কেন্দ্রর চেয়ারপারসন, মানবাধিকারকর্মী ও সিনিয়র অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আসকের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাধারণ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


