আটা-ময়দা ও রং দিয়ে ভেজাল ওষুধ তৈরি করে তা দেশের সবচেয়ে বড় ওষুধের বাজার মিটফোর্ডে ছড়িয়ে দিচ্ছিল একটি চক্র। বহুল প্রচলিত গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ প্যানটোনিক্স-২০ ও শ্বাসকষ্টের ওষুধ মোনাস-১০ এর নাম ব্যবহার করে ভুয়া ওষুধ বাজারে ছাড়ছিল তারা। চক্রটির দুই সদস্যকে গ্রেফতারের পর এমন তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার জানান, গোপন সূত্রের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় ওয়েস্ট ফার্মাসিউটিক্যাল নামের আয়ুর্বেদী ওষুধ তৈরির কারখানায় তৈরি করা হচ্ছে মোনাস-১০ ও প্যানটেনিক্স-২০ ট্যাবলেট। শ্বাসকষ্ট আর গ্যাস্ট্রিকের চিকিৎসায় ব্যবহৃত এ ওষুধ দুটি তৈরি করা হচ্ছে আটা-ময়দা আর রং ব্যবহার করে।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার চকবাজারের একটি কুরিয়ার সার্ভিস থেকে মোনাস-১০ ও প্যানটেনিক্স-২০ নকল ওষুধের চালানটি আটক করে ডিবির লালবাগ বিভাগ। এ সময় আলী আক্কাস শেখকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে আক্কাসের দেওয়া তথ্য মতে, ফকিরাপুল এলাকা থেকে সেসব ওষুধ তৈরি কারখানার মালিক গিয়াস উদ্দিন আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। দুজনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে, রাজধানীর চকবাজার, ফকিরাপুল ও চুয়াডাঙ্গায় বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ১০ লাখ ৩৪ হাজার ২৮০ পিস নকল প্যানটোনিক্স-২০ এবং ১৮ হাজার পিস নকল মোনাস-১০ ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ওষুধগুলো প্রথমে রাজধানীর মিডফোর্ডে আনা হত এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে দেশের সকল জায়গায় বাজারের চেয়ে অল্প দামে বিক্রয় করা হত।

citytouch 728-X-90

হাফিজ আক্তার বলেন, তারা ৩-৪ বছর ধরে অল্প দামে এ নকল ওষুধ বিক্রি করতো। এসব ওষুধ তৈরি হত শুধু আটা-ময়দা এবং রং ব্যবহার করে। তাছাড়া ডাই বা স্টেরয়েড ব্যবহৃত হতে পারে এ সকল ওষুধে। নন ফার্মাসিউটিক্যাল এ ওষুধে কোন গুণাগুণ তো নেই বরং এ ওষুধ খেলে কিডনি-লিভার, হৃদযন্ত্র বা শ্বাসতন্ত্র মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

ভুয়া ওষুধ প্রস্তুতকারীদের সতর্ক করে দিয়ে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, এ সকল ওষুধ কেউই বানাবেন না, তাহলে নিজেরা (অসাধু চক্র) বিপদে পড়ে যাবেন। এতে দেশের ক্ষতি হয়। যারাই নকল ওষুধ তৈরির চেষ্টা করবে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। আমরা ভেজালবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করছি।