প্রশ্ন করলেই উত্তর দিচ্ছে রোবট। গাইছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম জড়িত গান। এমনই একটি রোবট তৈরি করেছে লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের তিন শিক্ষার্থী। নাম দেওয়া হয়েছে ‘মিনা’। মূলত শিশুদের বিনোদনের মাধ্যমে পড়া শেখানোর উদ্দেশে এই রোবটটিকে তৈরি করেছেন তারা।

রোবট ‘মিনা’ তৈরি করা ওই তিন শিক্ষার্থী হলেন ইয়াছিন আরাফাত হৃদয়, শান্তনু আচার্য ও মেহেরাজ হোসেন সাগর। তারা তিন জনই লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র। শান্তনুর বাড়ি চাঁদপুরে এবং ইয়াছিন ও সাগরের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে তিন দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় অংশ নিতে ওই তিন শিক্ষার্থীকে একটি গ্যাজেট তৈরি করতে বলেন তাদের শিক্ষকরা। তখনই রোবট মিনা তৈরির সিদ্ধান্ত নেন ওই তিন শিক্ষার্থী। পরে মেলায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে তাদের তৈরি রোবট ‘মিনা’। তাদের তৈরি এই রোবটের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

citytouch 728-X-90

জানা যায়, রোবট মিনার সফটওয়্যারে যেসব ডাটা সংযোজন করা হয়েছে সেখান থেকে যেকোনো প্রশ্ন করলেই সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিচ্ছে মানবসৃষ্ট এই যন্ত্রটি। এছাড়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম জড়িত গানও গাইতে পারছে রোবটটি। আগামীতে রোবটটি যাতে হাঁটতে পারে সেই চেষ্টাই করছেন ওই শিক্ষার্থীরা।

রোবটটি তৈরির বিষয়ে হৃদয়, শান্তনু আচার্য ও মেহেরাজ জানান, মেলায় অংশগ্রহণের জন্য যখন শিক্ষকরা তাদের একটি গ্যাজেট তৈরি করতে বলেন তখন তারা রোবটটি তৈরির চিন্তা করেন। কিন্তু যথেষ্ট সময় না পাওয়ায় স্বল্প পরিসরে রোবটটিকে তৈরি করে মেলায় উপস্থাপন করা হয়।

তারা আরো জানান, রোবটটি বিনোদনের মাধ্যমে শিশুদের পড়া শেখাতে পারে। এছাড়া রোবটটি হাঁটার উপযোগী করে তৈরি করা হলে এটি সিকিউরিটি গার্ড হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। আগুন লাগলে জিএসএমের মাধ্যমে ডিভাইসে ইনস্টল করা নাম্বারে ফোন দিয়ে খবরও জানাতে পারবে। পাশাপাশি সাইরেন বাজাতে পারবে। এখনই মোটরের মাধ্যমে হাত নাড়াতে পারে ‘মিনা’।

আগামীতে হাঁটার উপযোগী করাসহ আরো কিছু সংযোজনের পর রোবটটি বাজারজাত করতে চান এই তিন শিক্ষার্থী। এ জন্য কারিগরি শিক্ষাবোর্ডসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা চান তারা।

এই বিষয়ে লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রনিক্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সোবহান শরীফ বলেন, মফস্বল শহরে থেকেও যে দারুণ কিছু করা যায় তাই দেখিয়ে দিয়েছে আমাদের শিক্ষার্থীরা। তাদের এই আবিষ্কার প্রতিষ্ঠানের মুখ উজ্জ্বল করার পাশাপাশি সাড়া ফেলে দেশজুড়ে। আগামীতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় বিজ্ঞান মেলায় তাদের এই আবিষ্কার উপস্থাপন করা হবে।