

হুমায়ুন কবীর মাসুদঃ
মেয়ের খুনসুটি আর শখ পূরণ করতে ছয় মাস আগে একটি স্কুটি কিনে দিয়েছিলেন তাঁর বাবা নূর মোহাম্মদ। কিন্তু সেই সাধের স্কুটিই যে মেয়ের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাড়াবে তা হয়তো তখনও জানা ছিল না পরিবারের। এখন শুধু বুকভাঙা কষ্ট-আর্তনাদ নিয়ে বিলাপ করে বলছিলেন, ‘কেন স্কুটি কিনে দিলাম।’
মাইশা মমতাজ মীম রাজধানীর স্বনামধন্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন উচ্চ শিক্ষার জন্য। কিন্তু এভাবে লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরবেন তা কেউ ধারণাও করতে পারেননি। রক্তাক্ত একটি নিথর দেহ আর সাধের স্কুটিটি পড়ে ছিল রাস্তার পাশে। পুলিশের ফোন পাওয়া মাত্র মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে মাইশার পরিবারের সদস্যদের। তারা হন্তদন্ত হয়ে ছুটে যান হাসপাতালে। সেখানে পৌছে দেখেন মেয়ের নিথর দেহ স্ট্রেচারে পড়ে রয়েছে।
মাইশার দাফন হয়ে গেছে। এই বিয়োগের প্রভাব হতভাগ্য মাইশার পরিবারকে ছাপিয়ে এখন পুরো কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকাজুড়ে।
নিজের কলিজার টুকরো সন্তানকে হারিয়ে মাইশার বাবা গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ বিলাপ করে বারবার বলছেন, ‘তোমরা আমার মীমকে এনে দাও। মাগো তুমি আমাদের ছেড়ে কোথায় চলে গেলা। তুমি ফিরে আসো।’
পরিবারের বড় সন্তান মাইশা ছিলেন মেধাবী একজন শিক্ষার্থী। ইচ্ছে ছিল শিক্ষক হবেন। কিন্তু সেই ইচ্ছা আর তাঁর পূরণ হল না।



