

রাজধানীবাসীর জন্য যানজট এখন নিত্য দিনের সঙ্গী। তবে রমজান মাসের যানজট মানেই রাজধানীবাসীর জন্য বিরক্তিকর বিষয়। রমজানের প্রথম দিনে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে সকাল থেকেই তীব্র যানজট পরিলক্ষিত হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।
রবিবার (০৩ এপ্রিল) রাজধানীর মিরপুর-১, মিরপুর-১০, টেকনিক্যাল মোড়, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল গেট, আসাদ গেট, সাইন্সল্যাব, ফার্মগেট এলাকা ঘুরে দেখা মিলে তীব্র যানজটের।
এদিকে, টঙ্গী থেকে ফার্মগেটের ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে চোখের ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে সকাল ৮:৩৫ মিনিটে বাসে উঠেন ষাটোর্ধ্ব মতিউর রহমান। কিন্তু টঙ্গী থেকে বাসে উঠার পর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন দূর্বিন নিউজের কাছে।
এ সময় আবেগ আপ্লূত হয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত মতিউর রহমান বলেন, ”ইচ্ছা ছিল মুসলিম জাতির জন্য ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস রমজানের প্রথম রোজাটি রাখার। কিন্তু আব্দুল্লাহপুর আসার পর বুঝতে পারি যে আমার পক্ষে এই তীব্র গরম আর যানজটে রোজা রাখাটা সম্ভব না। তাই রোজা ভেঙ্গে ফেলেছি ।
বাংলামোটরের এক রিক্সাচালক সুমন জানান , ‘’এই জ্যামের মধ্যে রিক্শা চালিয়ে জীবন চালাই।যে গরম এর মধ্যেও রোজা ছাড়ি নাই। তবে এই রকম জ্যাম হলে রোজা রাখা সম্ভব না।’
যানজটের ভুক্তভোগী আরোও অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা শহরের যানজট প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে । যদি এমন পরিস্থিতি চলমান থাকে এবং ইদের কেনাকাটা পুরোপুরি শুরু হয় তাহলে জনসাধারণের দূর্ভোগ চরমে উঠবে বলেও ধারণা করছেন তারা। এ সময়, যানজট নিরসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি কিছু পদক্ষেপের মাধ্যমে চলতি রমজানে কিছুটা ধকল কমাতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান ভুক্তভোগী নাগরিকদের।
এ বিষয়ে একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট বলেন , রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় সবসময়ই যানজট থাকে এর অন্যতম কারণ - লেনের গাড়ি সঠিক মতো চলাচল না করা। একইভাবে আজকেও বিভিন্ন পয়েন্টে যানজট রয়েছে।
তবে সন্ধ্যার আগে যানজট কমে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন একাধিক ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা।



