
জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে পাঁচ দিন পর মারা গেলেন অগ্নিদগ্ধ মরিয়ম আক্তার মীম। শুক্রবার (০৮ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বাবা মনির হোসেন ঢালী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মীমের খালা ইতি আক্তার শনিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে জানান, এখনও তারা মীমের মরদেহ বুঝে পাননি। মরদেহের জন্য তারা ঢাকা মেডিকেলে অপেক্ষায় রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার হাজি নোয়াদ্দা ঢালীকান্দি গ্রামের মনির হোসেন ঢালীর মেয়ে মরিয়ম আক্তার মীমের সঙ্গে একই উপজেলার বাহেরকান্দি মুন্সিকান্দি গ্রামের নওয়াব আলী সরকারের ছেলে মামুন সরকারের সাথে ছয় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বৈবাহিক জীবনে তাদের মুছা (৫) নামে এক ছেলে সন্তানও রয়েছে।
মীমের পরিবারের দাবি, যৌথ পরিবারে মামুনের মা-বোন প্রায়ই মীমকে নির্যাতন করত। নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে মাঝে-মধ্যেই বাবার বাড়ি চলে আসত মীম। কিন্তু মীমের দরিদ্র বাবার সামর্থ্য ছিল না মীমকে নিজ সংসারে রেখে ভরণ-পোষণ দেওয়ার। তাই তাকে বারবার বুঝিয়ে আবারও স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হতো।
মীমদের প্রতিবেশী রহিমা বলেন, সোমবার (৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে বেহেরকান্দি গ্রামের ইউপি সদস্য মুঠোফোনে মীমের বাবাকে জানায়, মীম নিজেই তার গায়ে আগুন দিয়েছে। পরে খবর পেয়ে আমি মীমের বাবার সঙ্গে তার শ্বশুরবাড়িতে যাই। গিয়ে দেখি মীমের সমস্ত শরীর আগুনে পুড়ে আছে। মীমের শাশুড়িসহ ওই বাড়ির লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে, আমরা শুধু একটা চিৎকার শুনেছি। পরে দরজা ভেঙে দেখি, মীমের শরীরে আগুন জ্বলছে। পরে আমরা মীমের শরীরে পানি ঢালি।
রহিমা অভিযোগ করে বলেন, মীমের শ্বশুরবাড়ির লোকজন বলছে ওরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখছে মীমের শরীরে আগুন জ্বলছে। কিন্তু আমরা ওই বাড়িতে দরজা ভাঙা দেখিনি। আমাদের ধারণা শাশুড়ি-ননদরা মিলে ওর শরীর আগুন দিয়েছে।
মীমের ছোট ভাই সোয়েব বলেন, আপুর শরীরে আগুন লাগছে শুনে আমরা ওই বাড়িতে গিয়ে দেখি, দুলাভাই আপুর কাছে না গিয়ে বাইরে ঘুরছে। ওই বাড়ির লোকজন আমার আপুর শরীরের আগুন নেভানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু দুলাভাই কাছেও আসেনি। পরে আমরা আপুকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দুলাভাই বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক এ বিষয়ে বলেন, এ ঘটনায় আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেব।


