ধর্ম


বায়োজিদ বোস্তামী মাজারের রহস্যময় জ্বীন কাছিম


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৭ মার্চ ২০২৩, ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার

বায়োজিদ বোস্তামী মাজারের রহস্যময় জ্বীন কাছিম
চট্টগ্রামের শত শত বছরের ঐতিহ্য বোস্তামির কাছিম। প্রখ্যাত ওলি হযরত বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার সংলগ্ন পুকুরে, এসব কাছিমের দেখা পাওয়া যায়। 

দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে, মাজারের এসব কাছিম বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। কেউ কেউ বলেন এগুলো আসলে জ্বীন। প্রকৃত পক্ষে চট্টগ্রামের এই বোস্তামি কাছিম পৃথিবীর অত্যন্ত বিরল। মাজারের মোতায়াল্লির ভাষ্য অনুযায়ী, বিরল এই কাছিম প্রজাতি, শুধুমাত্র মাজারের পুকুরেই টিকে আছে। পৃথিবীর অন্য কোথাও ,এদের প্রায় দেখা পাওয়া যায়না বললেই চলে। আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত বিরল এই প্রানী গুলোর নাম কাছিম বা কচ্ছপ। তবে স্থানীয় মানুষের কাছে এগুলো 'গজারী মাজারী' নামে পরিচিত।  এছাড়া বোস্তামীর কাছিম নামেও ডাকা হয় এদের। 

চট্টগ্রামের বায়োজিদ বোস্তামির মাজারের, শত শত বছরের ঐতিহ্য এসব শতবর্ষজীবী কাছিম। কয়েকশত বছর ধরে ,মাজারের পুকুরে বসবাস করে আসছে এগুলো। এদের উৎপত্তি নিয়েও ছড়িয়ে আছে নানা ধরণের কাহিনী।  অনেকের মতে বিরল এসব কাছিম আসলে সাধারণ কোন প্রানী নয়। বরং জ্বীনকে কাছিম রুপ দিয়ে রাখা হয়েছে এখানে। 

স্থানীয় মানুষের মাঝে প্রচলিত কাহিনী থেকে জানা যায়, প্রখ্যাত ওলী হযরত বায়োজিদ বোস্তামী (রঃ), একবার এই অঞ্চলে ভ্রমণ করেছিলেন। তার ভ্রমণের সময় মাজার এলাকাটি, দুষ্ট জ্বীন এবং পাপিষ্ঠ আত্মাদের পাদচারণায় মুখরিত ছিল।

হযরত বায়োজিদ বোস্তামী এসব দুষ্ট জীন কে শাস্তি দিয়ে কচ্ছপে পরিনত করেন এবং আজীবন পুকুরে বসবাসের দণ্ড দেন। সেই থেকে শত শত বছর ধরে ,মাজার সংলগ্ন পুকুরে বসবাস করে আসছে কাছিমগুলো। আবার অনেক মানুষের মতে, হযরত বায়োজিদ বোস্তামী ইরান থেকে আসার সময়, এসব কাছিম নিয়ে এসেছিলেন নিজের সাথে। তবে আসল ঘটনা যাই হোক, সাধারণ মানুষের কাছে এসব কাছিমের বিপুল ভক্তি ও সম্মান রয়েছে। 
অনেকে পীরদের মতো, বাবা বলে সম্মান করেন তাদের। মানুষের ডাকে সাড়া দিয়ে এসব কাছিমও ছুটে আসে পুকুরের পাড়ে। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঘুরতে আসেন বায়োজিদ বোস্তামীর মাজারে।

 তাদের আগ্রহের একটি বড় অংশ ঘিরে থাকে বোস্তামি কাছিম। বিশাল বিশাল এসব কাছিমের জন্য, খাবার নিয়ে আসেন অনেকে। দর্শনার্থীদের দেয়া খাবার খেয়েই বেঁচে থাকে বিরল এই কাছিম গুলো। 

তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, ২০০৪ সালে একবার, বিষ দিয়ে বোস্তামী কাছিমের বংশ নির্বংশ করার চেষ্টা করা হয়েছিলো। তখন জাতীয় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের চেষ্টায়, কোনোমতে রক্ষা পায় কচ্ছপগুলো।

বর্তমানে বায়োজিদ বোস্তামীর মাজারে কয়েকশত কাছিম টিকে আছে। মাজারের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা, কমিটির তত্ত্বাবধানে এসব কাছিম প্রতিপালন করা হয়।কর্তৃপক্ষের ধারণা, এখন কাছিমের মোট সংখ্যা মাত্র দুই থেকে সাড়ে তিনশো। তবে বিরল এই প্রজাতির বংশবৃদ্ধি ও সংরক্ষনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ।  

প্রজনন মৌসুমে, মাজারের মূল পাহাড়ের পেছনে, এদের জন্য সংরক্ষিত স্থানে, ডিম পাড়ার ব্যবস্থা করা হয়।প্রতিবছর মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে, মে মাস পরযনত ডিম পাড়ে  বোস্তামী কাছিম।  ডিম দেয়ার ৮০ থেকে ৯০ দিন পর, কাছিম ছানার জন্ম হয়।  

পৃথিবীতে অনেক প্রজাতির কাছিম রয়েছে। তবে বোস্তামির কাছিম কিছুটা আলাদা। এদের আকার এবং ওজন হয় অনেক বেশি।
 পুকুরের পানিতে শত বছরের বেশি বেচে থাকার ক্ষমতা রয়েছে এদের। পৃথিবীর বিরল এসব কাছিম নিয়ে, অনেক গবেষনাও হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।২০০৭ সালে, বোস্তামীর কাছিম নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করেছিলো,  ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেল। 


জনপ্রিয়


ধর্ম থেকে আরও পড়ুন

আরাফাতের ময়দানে ১৬ লাখ হজযাত্রীর ক্ষমা ও রহমতের প্রার্থনা

পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘ওকুফে আরাফাহ’ পালনে মঙ্গলবার ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬ লাখের বেশি হজযাত্রী। মহান আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত লাভের আশায় তারা দিনভর ইবাদত, দোয়া ও জিকিরে মশগুল রয়েছেন। সৌদি প্রেস এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।

বজ্রপাতে পশু মারা গেলে কি কুরবানি আদায় হবে?

ঈদুল আজহাকে ঘিরে মুসলমানরা আগে থেকেই কুরবানির পশু কিনে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। তবে অনেক সময় বজ্রপাত, দুর্ঘটনা, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে পশু মারা যেতে পারে। তখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— এমন অবস্থায় কি কুরবানি আদায় হবে, নাকি নতুন পশু কিনতে হবে?

কিয়ামতের জিজ্ঞাসাবাদ: বান্দার আমলই দেবে চূড়ান্ত সাক্ষ্য

কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাআলা কীভাবে বান্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন—এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস বর্ণনা করেছেন হযরত আবু হুরায়রা (রা.)। এই হাদিসে তুলে ধরা হয়েছে মানুষের আমল, জবাবদিহিতা এবং পরিণতির বাস্তবচিত্র।

ঈদের দিন কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।