ধর্ম


রমজানে যেসব সময় দোয়া কবুল হয়


দূরবিন ডেস্ক

দূরবিন ডেস্ক

প্রকাশিত:২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

আপডেট:২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

রমজানে যেসব সময় দোয়া কবুল হয়

ছবি: এআই । দূরবিন নিউজ


রমজান মাস আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য এক বিশেষ নিয়ামত। এ মাসে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের দুয়ার উন্মুক্ত থাকে এবং প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি করা হয়। হাদিসে এমন কিছু সময়ের কথা উল্লেখ আছে, যখন বান্দার দোয়া বিশেষভাবে কবুল হওয়ার আশা করা যায়। অথচ অনেকেই অজ্ঞতার কারণে এসব মূল্যবান সময় অবহেলায় কাটিয়ে দেন।

 

এক. ফজরের পরের সময়

রমজানে ফজরের নামাজের পরের সময়টি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করে, এরপর সূর্য ওঠা পর্যন্ত বসে আল্লাহর জিকির করে এবং পরে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে তার জন্য একটি হজ ও একটি ওমরার সাওয়াব রয়েছে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৫৮৬)

 

ইমাম নববী (রহ.) বলেন, দিনের মধ্যে আল্লাহর জিকিরের উত্তম সময়গুলোর একটি হলো ফজরের পরের সময়। আলেমরা বলেন, এ সময় জীবিকা বণ্টন করা হয়। তাই বিশেষ করে রমজানে ফজরের পর ইবাদত ও দোয়ায় মনোনিবেশ করা অধিক কল্যাণকর।

 

দুই. ইফতারের আগ মুহূর্ত

সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত, অর্থাৎ ইফতারের আগের সময়টি দোয়া কবুলের অন্যতম মূল্যবান সময়। নবী (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া প্রত্যাখ্যান করা হয় না ন্যায়পরায়ণ শাসক, রোজাদার যখন সে ইফতার করে এবং অত্যাচারিত ব্যক্তি।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৭৫২)

 

পূর্বসূরি আলেমরা ইফতারের আগে দোয়া ও জিকিরে মশগুল থাকতেন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, এ গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থেকে হারিয়ে যায়। তাই ইফতারের প্রস্তুতির পাশাপাশি কিছু সময় দোয়ার জন্য রাখা জরুরি।

 

তিন. শেষ রাতের সময়

রাতের শেষ তৃতীয়াংশ দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। পবিত্র কোরআনে শেষ রাতে ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের প্রশংসা করে বলা হয়েছে: ‘তারা ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, অনুগত, ব্যয়কারী এবং শেষ রাতে ক্ষমাপ্রার্থনাকারী। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৭)

 

নবী (সা.) বলেছেন, ‘রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে আমাদের প্রতিপালক দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন এবং বলেন কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব; কে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করব; কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৪৫)

 

তাই সাহরির আগে বা পরে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে আন্তরিকভাবে দোয়া ও ইস্তিগফার করা মুমিনের জন্য বড় সুযোগ।

 

শুধু এই তিন সময়ই নয়, বরং একজন মুমিনের জীবন হওয়া উচিত আল্লাহর জিকির ও ইবাদতে সজীব। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে তোমার প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর এবং রাতের কিছু অংশে ও দিনের প্রান্তগুলোতেও, যাতে তুমি সন্তুষ্ট হতে পারো।’ (সুরা ত্বহা, আয়াত: ১৩০)

 

আল্লাহ আমাদের রমজানের প্রতিটি মুহূর্তকে ইবাদত, জিকির ও কবুলযোগ্য দোয়ায় পরিপূর্ণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


সম্পর্কিত

রমজানধর্মদোয়া

জনপ্রিয়


ধর্ম থেকে আরও পড়ুন

ঈদের দিন কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জেনে নিন ফিতরা ও যাকাত কাদের দেওয়া উচিত, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ সময়ে এসে মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় ফিতরা ও যাকাত আদায় করা। এই দুটি ইবাদত শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমই নয়, বরং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও মানবিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার এক কার্যকর ব্যবস্থা।

২০৩০ সালে মুসলিমরা পালন করবেন ৩৬টি রোজা, ২০৩৩ সালে সম্ভব তিনটি ঈদ

পবিত্র রমজান মাসে সাধারণত মুসলিমরা ২৯ বা ৩০ দিন রোজা রাখেন। তবে বিশেষ বছরগুলিতে চন্দ্র ও গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির পার্থক্যের কারণে রোজার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। ২০৩০ সালে এমন ঘটনা ঘটবে, যেহেতু সেই বছরে দুইবার রমজান মাস পড়বে।

৬ মার্চ ২০২৬: আজকের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সেহরি ও ইফতারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।