ধর্ম
বৃহস্পতিবার থেকে ইতিকাফ শুরু, আগে জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

ইতিকাফ এর ফজিলত, নিয়ম, ও শর্ত সমূহ
পবিত্র রমজানের শেষ দশকের নীরব এক আত্মিক প্রশান্তির নাম ইতিকাফ। দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে দূরে গিয়ে সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভের বিশেষ সুযোগ এটি। বাংলাদেশ–সহ বিশ্বের মুসলিম সমাজে ধর্মপ্রাণ মানুষরা এই বিশেষ ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।
রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করা সুন্নতে মুআক্কাদা কিফায়া হিসেবে গণ্য। অর্থাৎ মহল্লার অন্তত একজন ইতিকাফ করলে অন্যরা দায়মুক্ত হন। তবে কেউ ইতিকাফ না করলে সবাই গুনাহের অংশীদার হতে পারেন।
ইতিকাফ শুরু করতে হবে ২০ রমজান সূর্যাস্তের আগেই মসজিদে প্রবেশের মাধ্যমে। সূর্যাস্ত বা মাগরিবের পর মসজিদে প্রবেশ করলে তা সুন্নত ইতিকাফ হিসেবে গণ্য হবে না; তখন তা নফল ইবাদত হিসেবে ধরা হবে। ইতিকাফ সাধারণত ঈদের চাঁদ দেখার দিন সূর্যাস্তের পর শেষ হয়।
ইতিকাফ তিন ধরনের— সুন্নত ইতিকাফ: রমজানের শেষ ১০ দিন, ওয়াজিব ইতিকাফ: মানত পূরণের জন্য, নফল ইতিকাফ: যেকোনো সময় করা যায়।
ইতিকাফ শুদ্ধ হওয়ার জন্য নিয়ত করা, পবিত্রতা বজায় রাখা এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে জামাত হয় এমন মসজিদে অবস্থান করা জরুরি। সুন্নত ও ওয়াজিব ইতিকাফের জন্য রোজা রাখাও শর্ত।
ইতিকাফ ভেঙে যাওয়ার কারণ
ইতিকাফকারী প্রয়োজন ছাড়া মসজিদ থেকে বের হলে ইতিকাফ ভেঙে যেতে পারে। অবশ্য প্রাকৃতিক প্রয়োজন, ফরজ গোসল, জুমার নামাজ আদায় বা আজান দেওয়ার মতো শরয়ি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সাময়িক বাইরে যাওয়া যায়।
তবে যেসব কারণে ইতিকাফ নষ্ট হতে পারে— অপ্রয়োজনীয়ভাবে মসজিদ ত্যাগ করা, নফল গোসলের জন্য বাইরে যাওয়া, জানাজা বা রোগী দেখতে শুধু এই উদ্দেশ্যে বের হওয়া, ব্যবসায়িক বা দুনিয়াবি কাজ করা, ইতিকাফ অবস্থায় স্ত্রী-সহবাস করা, টাকার বিনিময়ে অন্যকে ইতিকাফে বসানো (নাজায়েজ)।
নারীদের ইতিকাফ
নারীরা নিজ ঘরের নির্দিষ্ট কক্ষে ইতিকাফ করতে পারেন। তবে মসজিদে ইতিকাফ করতে চাইলে পর্দা ও নিরাপদ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। স্বামীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক এবং ঋতুস্রাব শুরু হলে ইতিকাফ বন্ধ করতে হবে।
ইতিকাফে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় বিছানাপত্র, পরিষ্কার পোশাক, ধর্মীয় বই ও তসবিহ সঙ্গে রাখা ভালো। অপ্রয়োজনীয় কথা, মোবাইল ব্যবহার এবং দুনিয়াবি ব্যস্ততা কমিয়ে কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও নফল ইবাদতে সময় দেওয়াই ইতিকাফের মূল লক্ষ্য।
জনপ্রিয়
সর্বশেষ
ধর্ম থেকে আরও পড়ুন
কিয়ামতের জিজ্ঞাসাবাদ: বান্দার আমলই দেবে চূড়ান্ত সাক্ষ্য
কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাআলা কীভাবে বান্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন—এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস বর্ণনা করেছেন হযরত আবু হুরায়রা (রা.)। এই হাদিসে তুলে ধরা হয়েছে মানুষের আমল, জবাবদিহিতা এবং পরিণতির বাস্তবচিত্র।

ঈদের দিন কী করবেন, কী এড়িয়ে চলবেন
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা আনন্দ, সম্প্রীতি ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য উপলক্ষ। তবে এই আনন্দঘন দিনে ইসলামের নির্ধারিত কিছু করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় রয়েছে, যা মেনে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জেনে নিন ফিতরা ও যাকাত কাদের দেওয়া উচিত, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
পবিত্র মাহে রমজানের শেষ সময়ে এসে মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় ফিতরা ও যাকাত আদায় করা। এই দুটি ইবাদত শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমই নয়, বরং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও মানবিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার এক কার্যকর ব্যবস্থা।

২০৩০ সালে মুসলিমরা পালন করবেন ৩৬টি রোজা, ২০৩৩ সালে সম্ভব তিনটি ঈদ
পবিত্র রমজান মাসে সাধারণত মুসলিমরা ২৯ বা ৩০ দিন রোজা রাখেন। তবে বিশেষ বছরগুলিতে চন্দ্র ও গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির পার্থক্যের কারণে রোজার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। ২০৩০ সালে এমন ঘটনা ঘটবে, যেহেতু সেই বছরে দুইবার রমজান মাস পড়বে।


.jpg)






