স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে ক্যামেরা, পারফরম্যান্স ও ব্যাটারির পাশাপাশি এখন টেকসই হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। দৈনন্দিন জীবনে হঠাৎ বৃষ্টি, ধুলাবালির সংস্পর্শ কিংবা অসাবধানতাবশত হাত থেকে ফোন পড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি প্রায়ই ঘটে। এসব বাস্তব চাহিদাকে সামনে রেখে টেকনো বাজারে এনেছে স্পার্ক ৫০ প্রো, যা টেকসই নির্মাণ, আধুনিক ফিচার এবং নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্সের সমন্বয়ে তৈরি।

ফোনটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো আইপি৬৮ ও আইপি৬৯ ডাস্ট এবং ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স। টেকনোর দাবি অনুযায়ী, এটি সর্বোচ্চ ছয় মিটার গভীর পানিতেও কার্যক্ষম থাকতে সক্ষম। ফলে বৃষ্টি, পানির ছিটা কিংবা কঠিন পরিবেশেও ফোনটি ব্যবহার করা যায় নিশ্চিন্তে।

নিরাপত্তার দিকটি আরও জোরদার করতে স্পার্ক ৫০ প্রোতে যুক্ত করা হয়েছে এসজিএস ফাইভ-স্টার ড্রপ রেজিস্ট্যান্স এবং ৩৬০ ডিগ্রি ড্রপ প্রোটেকশন। ফলে অসাবধানতাবশত হাত থেকে পড়ে গেলেও ফোনটি অতিরিক্ত সুরক্ষা পায়। নিয়মিত বাইরে কাজ করেন বা ব্যস্ত জীবনযাপন করেন, এমন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি হতে পারে একটি কার্যকর বিকল্প।

citytouch 728-X-90

ডিজাইনের দিক থেকেও ফোনটি আধুনিক ও ব্যবহারবান্ধব। এতে রয়েছে ৬.৭৮ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে এবং ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট, যা স্ক্রলিং, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, ভিডিও দেখা কিংবা অ্যাপ পরিবর্তনের অভিজ্ঞতাকে আরও মসৃণ করে। দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারেও ডিসপ্লেটি স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে।

ব্যাটারির দিকেও গুরুত্ব দিয়েছে টেকনো। স্পার্ক ৫০ প্রোতে রয়েছে ৬,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি, যা একবার চার্জে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা সম্ভব। পাশাপাশি ৬০ ওয়াট সুপার চার্জিং প্রযুক্তির মাধ্যমে অল্প সময়েই ফোনটি পুনরায় চার্জ করা যায়।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ব্যাটারিটি ১,৯০০ বারের বেশি চার্জ সাইকেলের পরও ৮০ শতাংশের বেশি সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদেও ব্যাটারির পারফরম্যান্স বজায় থাকে।

পারফরম্যান্সের জন্য ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেক হেলিও জি১০০ আল্টিমেট প্রসেসর। এটি ৪জি প্রসেসর হলেও দৈনন্দিন ব্যবহার, মাল্টিটাস্কিং এবং একাধিক অ্যাপ পরিচালনায় ভালো অভিজ্ঞতা দেয়।

স্পার্ক ৫০ প্রো পাওয়া যাচ্ছে ৬ জিবি ও ৮ জিবি র‍্যামের দুটি সংস্করণে। এক্সটেন্ডেড র‍্যাম প্রযুক্তির মাধ্যমে ৬ জিবি সংস্করণে সর্বোচ্চ ১৮ জিবি এবং ৮ জিবি সংস্করণে ২৪ জিবি পর্যন্ত র‍্যাম ব্যবহার করা যায়। দুটি সংস্করণেই রয়েছে ১২৮ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ।

ফটোগ্রাফির জন্য ফোনটিতে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের সনি লাইটিয়া ৬০০ ফ্ল্যাশস্ন্যাপ ক্যামেরা, যা বিভিন্ন আলোর পরিবেশে পরিষ্কার ও প্রাণবন্ত ছবি তুলতে সক্ষম। দ্রুতগতির বিষয়বস্তুর ছবি তুলতেও ফ্ল্যাশস্ন্যাপ ফিচার কার্যকর ভূমিকা রাখে। সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য সামনে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা।

বিনোদনের অভিজ্ঞতা বাড়াতে ফোনটিতে রয়েছে ডিটিএস সাউন্ড সমর্থিত ডুয়াল স্পিকার। পাশাপাশি অল-সিনারিও নয়েজ ক্যান্সেলেশন প্রযুক্তি থাকায় কল কিংবা অনলাইন মিটিংয়ের সময় আশপাশের শব্দ কম শোনা যায়।

অ্যান্ড্রয়েড ১৬ অপারেটিং সিস্টেমে চলা স্পার্ক ৫০ প্রোতে যুক্ত করা হয়েছে টেকনোর বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ফিচার। এর মধ্যে রয়েছে ওয়ান-ট্যাপ সামারাইজেশন, এআই ফ্ল্যাশমেমো, এআই রাইটিং, এআই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাসিস্ট্যান্ট, এআই প্রবলেম সলভিং, এআই হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং এআই স্মার্ট শিডিউলিং। এসব ফিচার পড়াশোনা, অফিসের কাজ, ব্যক্তিগত পরিকল্পনা ও যোগাযোগকে আরও সহজ করতে সহায়তা করে।

এ ছাড়া ফ্রিলিঙ্ক ২.০ প্রযুক্তির মাধ্যমে দুর্বল নেটওয়ার্ক পরিস্থিতিতেও কাছাকাছি থাকা সমর্থিত ডিভাইসের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখা যায়। টাচ ট্রান্সফার সুবিধার কারণে অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনের মধ্যে দ্রুত ফাইল আদান-প্রদানও সম্ভব।

বাংলাদেশের বাজারে টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো-এর ৬ জিবি র‍্যাম সংস্করণের মূল্য ২৬,৯৯৯ টাকা এবং ৮ জিবি র‍্যাম সংস্করণের মূল্য ৩০,৯৯৯ টাকা। উল্লিখিত মূল্যের সঙ্গে প্রযোজ্য ভ্যাট যুক্ত হবে।

টেকনোর মতে, স্পার্ক ৫০ প্রোতে টেকসই নির্মাণ, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, দ্রুত চার্জিং, বড় ডিসপ্লে, উন্নত ক্যামেরা এবং এআইভিত্তিক স্মার্ট ফিচারের সমন্বয় রয়েছে। দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য নির্ভরযোগ্য স্মার্টফোন খুঁজছেন এমন ব্যবহারকারীদের জন্য এটি হতে পারে একটি কার্যকর বিকল্প।