প্রযুক্তি


স্মার্ট টেকনোলজিসের এমডির বিরুদ্ধে বিদেশে গোপন কোম্পানি ও অর্থপাচারের অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:৩০ জুন ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

আপডেট:৩০ জুন ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

স্মার্ট টেকনোলজিসের এমডির বিরুদ্ধে বিদেশে গোপন কোম্পানি ও অর্থপাচারের অভিযোগ

নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ছাড়াই সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) একাধিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা এবং বিদেশে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে দেশের প্রযুক্তিপণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম ও তার ভাই মাঝহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ ও সেখান থেকে অর্জিত আয়ের কোনো তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নথিতে নেই।

 

একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রায় এক বছর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করলেও এখন পর্যন্ত তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৯ সালে সিঙ্গাপুরে ‘স্টারসিড টেকনোলজি’ নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন জহিরুল ইসলাম ও মাঝহারুল ইসলাম। প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক মূলধন ছিল ৬০ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৮ কোটি টাকা।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে প্রযুক্তিপণ্য সরবরাহের ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে এবং দুই ভাইয়ের মালিকানা সমান। সিঙ্গাপুরের সরকারি নথি অনুযায়ী, কোম্পানিটি তুরস্কের নাগরিক পরিচয় ব্যবহার করে নিবন্ধিত হয়েছে।

 

অনুসন্ধানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে জহিরুল ইসলাম ও তার ভাইয়ের নামে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে।

 

এর মধ্যে ‘সিমাল টেকনোলজি মিডল ইস্ট’ ২০০২ সালে নিবন্ধিত হয়। কোম্পানিটিতে জহিরুল ইসলামের মালিকানা ১৫ শতাংশ এবং মাঝহারুল ইসলামের মালিকানা ৮৫ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা আফ্রিকাসহ তিনটি মহাদেশে বিস্তৃত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া ‘টুইনমস টেকনোলজি মিডল ইস্ট’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান ২০০১ সালে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্রি-জোন এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়, যার কার্যক্রমও বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত।

 

বিদেশে এসব বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জহিরুল ইসলাম বা তার প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশে ব্যবসা পরিচালনার কোনো অনুমোদনের তথ্য তাদের কাছে নেই।

 

একই সঙ্গে আয়কর নথিতেও বিদেশি কোম্পানিগুলো থেকে অর্জিত আয়ের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও জহিরুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করেননি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

 

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অর্থপাচারের প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগও অব্যাহত রাখতে হবে।

 

উল্লেখ্য, জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্তে গত বছরের মার্চ মাসে একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয় দুদক। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ার পর তদন্ত কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে।


সম্পর্কিত

লেনোভোডিস্ট্রিবিউটর এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডচীন

জনপ্রিয়


প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন

জুলাই থেকে বাড়তে পারে আমদানি করা স্মার্টফোনের দাম, চাঙ্গা হবে অবৈধ ফোনের বাজার

বাংলাদেশে আমদানি করা স্মার্টফোনের ওপর সরকারের দেওয়া অস্থায়ী শুল্ক ছাড়ের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। এর ফলে আগামী জুলাই থেকে দেশের বাজারে আমদানি করা হ্যান্ডসেটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধি বৈধ আমদানি নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং ক্রেতাদের একটি অংশকে অবৈধ বা ‘গ্রে মার্কেট’-নির্ভর ফোনের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি ও উন্নত ক্যামেরায় বাজারে এলো টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো

গ্লোবাল এআই-চালিত প্রযুক্তি ব্র্যান্ড টেকনো বাংলাদেশের বাজারে উন্মোচন করেছে তাদের স্পার্ক সিরিজের নতুন স্মার্টফোন টেকনো স্পার্ক ৫০ প্রো। ফ্ল্যাগশিপ পর্যায়ের সুরক্ষা ব্যবস্থা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি, শক্তিশালী প্রসেসর এবং এআইভিত্তিক বিভিন্ন সুবিধার সমন্বয়ে তৈরি এই স্মার্টফোনটি আধুনিক ব্যবহারকারীদের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই বাজারে আনা হয়েছে।

ভোলায় নারী মোবাইল প্রযুক্তিকর্মী মহিমা হয়ে উঠেছেন আস্থার প্রতীক

দারিদ্র্য, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ও কুসংস্কার পেরিয়ে ভোলার তরুণী মহিমা বেগম মোবাইল প্রযুক্তি খাতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। বর্তমানে তিনি ভোলার একটি মোবাইল সার্ভিসিং প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন এবং বিশেষ করে নারী গ্রাহকদের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

এআই পুনর্গঠনে মেটার বড় ছাঁটাই, চাকরি হারাচ্ছেন ৮ হাজার কর্মী

ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান Meta Platforms বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে। বুধবার থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৮ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হচ্ছে, যা কোম্পানিটির মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ। একই সঙ্গে আরও প্রায় ৭ হাজার কর্মীকে নতুন দায়িত্বে স্থানান্তর করা হচ্ছে, যেখানে অগ্রাধিকার পাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংশ্লিষ্ট কাজ।