বাংলাদেশ


আল হারামাইনের বিরুদ্ধে পারফিউম ব্যবসার আড়ালে হাজার হাজার কোটি টাকার হুন্ডি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:৩০ জুন ২০২৬, ০২:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

আপডেট:৩০ জুন ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

আল হারামাইনের বিরুদ্ধে পারফিউম ব্যবসার আড়ালে হাজার হাজার কোটি টাকার হুন্ডি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত


পারফিউম ব্যবসার আড়ালে দেশের অন্যতম বৃহৎ হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে আল হারামাইন পারফিউমসের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)। সংস্থাটির দাবি, হুন্ডির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের সঙ্গে কোম্পানিটির সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান নাসিরের দেশ-বিদেশের সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

 

এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের তথ্য অনুযায়ী, আল হারামাইন পারফিউমসের মালিক সিলেটের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান নাসির বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং গোল্ডেন ভিসার আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস করছেন।

 

সিআইসি জানিয়েছে, মাহতাবুর রহমান নাসিরের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক বিশ্বের ৮৬টি দেশে বিস্তৃত। বাংলাদেশ ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে আল হারামাইন পারফিউমসের শোরুম রয়েছে। অন্যান্য দেশে তার দৃশ্যমান ব্যবসা আমদানি-রপ্তানিকেন্দ্রিক হলেও অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক হুন্ডি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পারফিউম ও আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার আড়ালে এক দেশ থেকে অন্য দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।

 

সম্পদ ও অর্থ পাচারের তথ্য সংগ্রহে সম্প্রতি সিআইসির একটি প্রতিনিধি দল সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছে। সেখানে বিভিন্ন রাজ্যে থাকা মাহতাবুর রহমান নাসিরের সম্পদসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব দেশে তার সম্পদের তথ্য রয়েছে, সেসব দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

 

দেশের ভেতরেও তার সম্পদের অনুসন্ধান চালিয়েছে সিআইসি। তদন্তের অংশ হিসেবে সিলেটে মাহতাবুর রহমান নাসিরের বাড়িতে দুই দফা তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ১০৪টি সম্পত্তির দলিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।

 

এর আগে গত ২২ জানুয়ারি সিআইসির আবেদনের ভিত্তিতে মাহতাবুর রহমান নাসির ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়। এ তালিকায় রয়েছেন তার ছেলে মোহাম্মদ এমাদুর রহমান, ভাই মোহাম্মদ ওলিউর রহমান, ভাতিজা মোহাম্মদ আশফাকুর রহমান ও মোহাম্মদ এহসানুর রহমান এবং আল হারামাইন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সাব্বির আহমেদ। তাদের আয়কর নথি পর্যালোচনা এবং ভূমি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে সম্পদের তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

 

তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান নাসির। তিনি বলেন, তার আয়ের প্রধান উৎস আল হারামাইন পারফিউমস। বাংলাদেশে ব্যবসায় লোকসান হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠানটি জনপ্রিয়। তিনি দাবি করেন, কখনো হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং তার কোনো অবৈধ ব্যবসাও নেই। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে তার কোনো ব্যবসা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে আল হারামাইন পারফিউমসের শোরুমগুলো হুন্ডির অর্থ লেনদেনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার বসুন্ধরা সিটির শোরুমে অর্থ জমা দিলে দুবাইয়ের সিটি সেন্টারের শোরুম থেকে সমপরিমাণ অর্থ দিরহামে পরিশোধ করা হয়। এসব শোরুমে ছোট অঙ্কের লেনদেন হয় না; বড় ব্যবসায়ী ও অর্থ পাচারকারীদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকার অর্থ গ্রহণ করা হয় এবং বিশেষ একটি খাতায় সেই হিসাব সংরক্ষণ করা হয়।

 

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, হুন্ডির পাশাপাশি মাহতাবুর রহমান নাসিরের স্বর্ণ চোরাচালানের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের তথ্যও তদন্তে পাওয়া গেছে। ঢাকায় ও দুবাইয়ে আল হারামাইন পারফিউমসের শোরুম পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, দীর্ঘ সময়েও সেখানে কোনো পারফিউম ক্রেতা আসেননি।

 

সিআইসির মহাপরিচালক আহসান হাবিব বলেন, মাহতাবুর রহমান নাসিরকে ঘিরে তদন্তের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। জব্দ করা নথিপত্র পর্যালোচনা এবং প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত হওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।

 

আল হারামাইন পারফিউমসের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির পারফিউমের মূল্য বাংলাদেশে ৩ হাজার টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। দেশে তাদের ১৫টির বেশি শোরুম রয়েছে। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, সীমান্ত সম্ভার, গুলশানের পিংক সিটি, সেন্টার পয়েন্ট ও বায়তুল মোকাররম মার্কেট ছাড়াও চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, বগুড়া, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে প্রতিষ্ঠানটির শোরুম পরিচালিত হচ্ছে।


সম্পর্কিত

অর্থ পাচারব্যবসা

জনপ্রিয়


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

এক মাসে ভিভোসহ ৩ স্মার্টফোন বিস্ফোরণ, এক জনের মৃত্যু; আতঙ্কে ব্যবহারকারীরা

দেশে বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ভিভোর স্মার্টফোন বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি জুন মাসে আশুলিয়া-টঙ্গী-কুষ্টিয়ায় ভিভোসহ তিনটি স্মার্টফোন বিস্ফোরণের ঘটনা সামনে এসেছে। এ ঘটনায় একজন মারা গেছেন। এবং কয়েকজন আহত হয়েছে।

দেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে শাওমির নতুন ৫ ডিভাইস

বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমি বাংলাদেশের বাজারে পাঁচটি নতুন লাইফস্টাইল ডিভাইস উন্মোচন করেছে। নতুন লাইনআপে রয়েছে তিনটি ফাস্ট-চার্জিং পাওয়ার ব্যাংক, একটি সাউন্ডবার এবং একটি প্রিমিয়াম ওয়্যারলেস হেডফোন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিভাইসগুলো ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্রে পাওয়া যাচ্ছে।

এবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর পকেটে ভিভো মোবাইল বিষ্ফোরণ

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর পকেটে থাকা ভিভো ব্র্যান্ডের একটি মোবাইল ফোন বিস্ফোরণের অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

এবার টঙ্গীতে ভিভো মোবাইল বিস্ফোরণ, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেল পরিবার

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি পরিবারের ব্যবহৃত ভিভো ওয়াই-২০ মডেলের স্মার্টফোন হঠাৎ অতিরিক্ত গরম হয়ে বিস্ফোরিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।