ক্রিকেট


শেষ ওভারে তিন বলে তিন ছয় হাঁকিয়ে মুম্বাইকে জেতালেন টিম ডেভিড।


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০১ মে ২০২৩, ০৫:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার

শেষ ওভারে তিন বলে তিন ছয় হাঁকিয়ে মুম্বাইকে জেতালেন টিম ডেভিড।
দিনটি ছিলো মার্চ মাসের শেষ দিন। আইপিএল ইতিহাসের ১০০০ তম ম্যাচ। ম্যাচ শুরুর আগে পনেরো মিনিটের ছোট্ট আয়োজনের পর মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ও রাজস্থান রয়্যালস মাঠে নামে জয়ের লড়াইয়ে। 

তবে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নামে রানের বৃষ্টি। রাজস্থানের দেওয়া ২১৩ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৩ বল হাতে রেখেই অবিশ্বাস্য ম্যাচ জিতে নেয় মুম্বাই। আর জয়ের নায়ক সিঙ্গাপুরী বংশোদ্ভূত টিম ডেভিড। 

শেষ ওভারে জয়ের জন্য যখন মুম্বাইয়ের দরকার ১৭ রান, তখন ডেভিড হোল্ডারের প্রথম তিন বলে টানা তিন ছক্কা মেরে দলকে জয় এনে দেন। তাঁর ৩২১.৪২ স্ট্রাইক রেটে খেলা অবিশ্বাস্য এই ইনিংস সাজিয়েছেন ২টি চার আর ৫ ছক্কায়। তাঁর ১৪ বলে ৪৫ রানের ইনিংসের উপর ভর করেই রাজস্থানের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক জয় পায় মুম্বাই। 

এবারের আইপিএল আসরে মুম্বাইয়ের সবচেয়ে দামি বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে নাম লেখান ডেভিড। মুকেশ আম্বানির দলটি সিঙ্গাপুরী এই বিদেশি ক্রিকেটারকে দলে ভিড়িইয়েছিলো ৮.২৫ কোটি রুপিতে।  

কিন্তু দাম অনুযায়ী ডেভিডের ব্যাটে ধারাবাহিকতা ছিল না। ব্যাট হাতে খুব একটা সুবিধা করতে পারছিলেন না তিনি তবে ঠিকই একটা দারুণ ম্যাচের অপেক্ষায় ছিলেন। 

কাল রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে সেই সুযোগটিই পেয়ে গেলেন। দলের প্রয়োজনের মুহূর্তে ঝলসে উঠল তাঁর ব্যাট। অনেক দিন ধরেই এমন একটা ইনিংস খেলতে চেয়েছিলেন ডেভিড। 

কাল ম্যাচ শেষে ডেভিড বলেছেন সে কথাই, ‘আমি অনেক দিন ধরেই এমন একটা ইনিংস খেলার অপেক্ষায় ছিলাম। শেষ ওভারে আমি একটু সামনে এগিয়ে গিয়ে খেলতে চেয়েছি। চেয়েছি বলের অ্যাঙ্গেল কমিয়ে আনতে আর শট খেলতে। শেষের দিকে ব্যাটিং করার মজাই আলাদা। এমন জয়ের অনুভূতিটা সত্যিই অনন্য।’

দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে ২১৩ রানের সুবিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনিংয়ে আজও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন ক্যাপ্টেন রোহিত শর্মা। প্রথমেই সন্দীপ শর্মার বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন হিটম্যান খ্যাত এ ওপেনার। 

এরপর ব্যাট করতে আসেন ক্যামেরণ গ্রিন। বল হাতে গ্রিন আজ খারাপ পারফরমেন্স করলেও, ব্যাট হাতে ভক্তদের মন কাড়লেন তিনি। কিছুক্ষণ পর ঈশান কিষাণ বড় শটের সন্ধানে ২৮ রান করে আউট হন। 

পরবর্তীতে গ্রিন ও সূর্য কুমার যাদবের দাপটে কিছুমুহুর্তের জন্য ম্যাচে এগিয়ে ছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। কিন্তু গ্রিন ও সূর্য মাঠ ছাড়লে ম্যাচের ছবি বদলে যায়। ৫৫ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন সূর্য এবং অন্যদিকে ৪৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন গ্রিন। 

তারপর ব্যাট হাতে জয়ের জন্য ক্রিজে লড়ে যাচ্ছিলেন তিলক বর্মা এবং টিম ডেভিড। তিলক বর্মা ম্যাচটিকে ধরে খেললেও অপরদিকে টিম ডেভিডের ১৪ বলে ৪৫ রানের ইনিংসের উপর ভর করে টুর্নামেন্টের চতুর্থ জয় তুলে নেয় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।

এর আগে প্রথম ইনিংসের শুরুটা অসাধারণ হয় রাজস্থানের। প্রথম উইকেটে ৭২ রানের পার্টনারশিপ করে জয়সওয়াল এবং জশ বাটলার। পরে বাটলার ১৮ রানে আউট হয়ে গেলেও জয়সওয়াল  এক প্রান্ত আগলে রেখে তুলে নেন নিজের আইপিএল ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। মাত্র ৬২ বলে ১২৪ রান করেন ভারতের অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপে খেলা এই ক্রিকেটার। তাঁর একার ইনিংসে ভর করে ২১২ রানে পৌঁছায় রাজস্থান রয়্যালস।



সম্পর্কিত

খেলার খবর

জনপ্রিয়


ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন

ঘরের মাঠেই হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হার

ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোয়ায় টাইগাররা।

ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভুগল বাংলাদেশ, প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার সহজ জয়

ওয়ানডে সিরিজে পরপর দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ খোয়ানোর পর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও জয় দিয়ে শুরু করতে পারেনি বাংলাদেশ। ব্যাটিং বিপর্যয়ে প্রত্যাশিত সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হওয়ায় তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৪ উইকেটের সহজ জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়া বধ, মোসাদ্দেকের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে বাংলাদেশের দাপুটে জয়

অবশেষে অস্ট্রেলিয়া বাধা পেরোল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২১ বছর পর ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে চার বছর পর দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেনের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ডিএলএস পদ্ধতিতে ৮৬ রানের বড় জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা।

ক্রিকেটের নিয়মে বড় পরিবর্তনের ভাবনা আইসিসির

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিভিন্ন ফরম্যাটে একাধিক নতুন নিয়ম চালুর পরিকল্পনা করছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। ওয়ানডেতে ড্রিংকস ব্রেকের সময় মাঠে কোচের প্রবেশ, টেস্টে বল পরিবর্তনের সুযোগ এবং টি-টোয়েন্টিতে ইনিংস বিরতি কমানোর মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।