অবশেষে অস্ট্রেলিয়া বাধা পেরোল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২১ বছর পর ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে চার বছর পর দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেনের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ডিএলএস পদ্ধতিতে ৮৬ রানের বড় জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা।

রোববার মিরপুরে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে অস্ট্রেলিয়া ৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রান করার পর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে আর খেলা মাঠে গড়ায়নি এবং ডিএলএস পদ্ধতিতে জয়ী ঘোষণা করা হয় বাংলাদেশকে।

বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ভালো না হলেও দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম৯৬ রানের জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন। তামিম ৫৪ রান করে আউট হলেও শান্ত ৬৭ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন।

citytouch 728-X-90

তবে মাঝের দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। সেই অবস্থায় দলের হাল ধরেন তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন। দুজনের ৭৫ রানের জুটি বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেয়। হৃদয় ৩১ রান করে ফিরলেও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান মোসাদ্দেক।

চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন এই অলরাউন্ডার। ৭০ বলে ৮৬ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ইনিংসটি ছিল তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের ১৬ বলে ২০ রানের ক্যামিও ইনিংসে বাংলাদেশের স্কোর পৌঁছে যায় ২৮৪ রানে।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে নাথান এলিস তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া ম্যাট রেনশ ও লিয়াম স্কট দুটি করে এবং জাভিয়ার বার্টলেট একটি উইকেট শিকার করেন।

২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাথিউ শর্টকে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারে মুস্তাফিজুর রহমান ফেরান মার্নাস ল্যাবুশেনকে।

২ রানে ২ উইকেট হারানোর পর জশ ইংলিস ও কুপার কনোলি প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ইংলিস ১৯ রান করে ফিরলে পরে কনোলিকেও সাজঘরে পাঠান মোসাদ্দেক।

বল হাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখেন মোসাদ্দেক। তিনি ৩৭ রান খরচায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। তবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ ভাঙার মূল কাজটি করেন পেসার রানা। আগুনঝরা বোলিংয়ে ৪১ রানে চারটি উইকেট শিকার করেন তিনি। ইংলিস, অ্যালেক্স ক্যারি, লিয়াম স্কট ও জাভিয়ার বার্টলেটকে ফেরান এই পেসার।

এক প্রান্তে ক্যামেরন গ্রিন ৬৬ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকলেও অন্য প্রান্ত থেকে কোনো কার্যকর সমর্থন পাননি। ফলে অস্ট্রেলিয়া বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

এর আগে ২০০৫ সালে প্রথমবার ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় অপেক্ষার পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে জয় পেল টাইগাররা। ২০১৫ সালের পর প্রায় সব টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে ওয়ানডে জয়ের রেকর্ড গড়লেও অস্ট্রেলিয়া ছিল অধরা। এবার সেই আক্ষেপও ঘুচল বাংলাদেশের।