অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে তানজিদ হাসান ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে শতক করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হয়েছেন তিনি। একই দিনে নাজমুল হোসেন শান্তও ফিফটি পেয়েছেন। এর আগে হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করেছিল বাংলাদেশ। ফলে একই টেস্টে ফাইফার ও সেঞ্চুরির কৃতিত্ব পেল সফরকারীরা।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের ১ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদ হাসান ও মুমিনুল হক ১০২ রানের জুটি গড়েন। মুমিনুল ৯৫ বলে ৮টি চারে ৪৯ রান করে জশ হ্যাজলউডের বলে অ্যালেক্স ক্যারির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।
মুমিনুলের বিদায়ের পরও ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন তানজিদ। ১০২ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন এই ওপেনার। এর কিছুক্ষণ পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও ৭৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন।
তানজিদ এরপর ১৮৮ বলে ৮টি চার ও একটি ছক্কায় ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। নাথান লায়নের বল লং অফ দিয়ে সীমানায় পাঠানোর পর একটি রান নিয়ে শতকে পৌঁছান তিনি। এরপর ক্রিজে দাঁড়িয়েই উদযাপন করেন তানজিদ। হেলমেট খুলে সতীর্থদের অভিনন্দন গ্রহণ করেন বাংলাদেশের এই ওপেনার।
সেঞ্চুরির কিছুক্ষণ আগে তানজিদের ব্যাট থেকেই আসে বাংলাদেশের ইনিংসের দুইশ রানের মাইলফলক। ব্যাকফুটে গিয়ে বলটি ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে সীমানাছাড়া করেন তিনি। ওই চারেই প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ছাড়িয়ে যায় বাংলাদেশ।
দিনের প্রথম সেশনের শেষেও তানজিদ অপরাজিত ছিলেন। তখন তাঁর সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। লাঞ্চে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ১৮১ রান। অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে তখনও ১৭ রানে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনে প্রথম সেশনে এক উইকেট হারিয়ে ৮৫ রান যোগ করে সফরকারীরা।
এর আগে প্রথম দিন অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখেন হাসান মাহমুদ। তাঁর ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৬ উইকেট হারায় স্বাগতিকেরা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন স্টিভ স্মিথ, ৭১।
প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের শুরুটাও ছিল ইতিবাচক। দলীয় ৩৬ রানে সাদমান ইসলাম আউট হলেও দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদ ও মুমিনুলের জুটি দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। মুমিনুলের বিদায়ের পর তানজিদের সঙ্গে যোগ দেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের আগের টেস্ট অভিজ্ঞতা খুব বেশি নয়। ডারউইন ও কেয়ার্নসে আগের দুটি টেস্টে স্বাগতিকদের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২৩ বছর পর ডারউইনে ফিরে এবার ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। বোলিংয়ে হাসান মাহমুদের ছয় উইকেটের পর ব্যাট হাতে তানজিদের সেঞ্চুরি বাংলাদেশকে ম্যাচে শক্ত অবস্থান এনে দিয়েছে।
তানজিদের এই শতক অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ও তৈরি করেছে। অন্যদিকে শান্তর ফিফটি এবং তানজিদের সঙ্গে তাঁর জুটি বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে।










