ফুটবল


ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার হঠাৎ পতন: পেনাল্টিতে বিধ্বস্ত দুই পরাশক্তি, এক ধাক্কায় ব্রাজিল নেমে ৫ নম্বরে


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার হঠাৎ পতন: পেনাল্টিতে বিধ্বস্ত দুই পরাশক্তি, এক ধাক্কায় ব্রাজিল নেমে ৫ নম্বরে
কাকতালীয় হলেও বাস্তব! আগের ম্যাচে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়, আর এবার ঠিক উল্টো—দুদলই হেরে বসে ১-০ গোলে। তাও আবার একেবারে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে প্রতিপক্ষের পেনাল্টি থেকেই এসেছে একমাত্র গোলটি। আর্জেন্টিনার হারের আনন্দে ভাসতে না ভাসতেই ব্রাজিল সমর্থকদের মুখে বিষাদের ছায়া—৩০ মিনিট পার হওয়ার আগেই সেলেসাওরাও হেরে বসেছে ঠিক একই ব্যবধানে।
তবে এখানেই শেষ নয়। পারফরম্যান্সে ভাটা ধরায় বড় পার্থক্য দেখা গেছে র‍্যাঙ্কিংয়েও। আর্জেন্টিনা হারলেও থেকেছে এক নম্বরেই, কিন্তু ব্রাজিল নেমে গেছে এক ধাক্কায় পাঁচে।
 পেনাল্টিতে ভর করে বিশ্বকাপে, আর সেই পেনাল্টিতেই কাল
যে পেনাল্টি সিদ্ধান্ত ব্রাজিলকে আমেরিকা বিশ্বকাপের টিকিট এনে দিয়েছিল, সেটিই যেন এবার ছুরি হয়ে ফিরে এলো তাদের বুকে। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি পাওয়া দল ব্রাজিল এতদিন প্রতিপক্ষকে একটি পেনাল্টিও দেয়নি। অবশেষে সেই ইতিহাস ভেঙে নিজেদের শেষ ম্যাচেই প্রথমবারের মতো পেনাল্টি উপহার দিলো বলিভিয়াকে—আর সেটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
 বলিভিয়ার ধাক্কায় বিধ্বস্ত ব্রাজিল
বলিভিয়ার ঘরের মাঠ লা পাজ—যার উচ্চতা প্রায় ৩৬০০ মিটার! এই ভেন্যুতে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা তো আছেই, তার ওপর বলিভিয়ার গতিময় খেলা যেন আরও কঠিন করে তোলে প্রতিপক্ষের জন্য।
ইতালিয়ান কোচ কার্লো আঞ্চেলত্তির অধীনে এই ম্যাচ ছিল ব্রাজিলের জন্য একটি পরীক্ষা। বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় সুযোগ পেয়েছিলেন বেঞ্চের খেলোয়াড়রা। কিন্তু সেই পরীক্ষা ব্যর্থ হয়েছে ভয়াবহভাবে।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ব্রুনো গুইমারেসের ভুলে প্রতিপক্ষ পায় পেনাল্টি। গোলরক্ষক এলিসন বেকার বরাবরের মতোই ব্যর্থ হন পেনাল্টি ঠেকাতে। ফলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে সেলেসাওরা।
 দ্বিতীয়ার্ধে ‘বড় নাম’ দিয়েও বদলানো গেল না ভাগ্য
দ্বিতীয়ার্ধে রাফিনহা, এস্তাভাও, মার্কুইনহোস, জোয়াও পেদ্রোদের মাঠে নামিয়েও লাভ হয়নি। বরং শেষ দিকে গিয়ে একের পর এক হলুদ কার্ড খেয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে ফেলে ব্রাজিল।
বল দখল, পজিশনিং—সবখানেই পিছিয়ে ছিল তারা। বলিভিয়া বারবার আক্রমণে চেপে ধরে, এবং ব্রাজিলের কৌশলগত দুর্বলতা চোখে পড়ে স্পষ্টভাবে।
 এক হারে বড় ধস র‍্যাঙ্কিংয়ে
হারের পর ২৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় পাঁচে নেমে গেছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত থাকলেও এই হার তাদের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনাও একইভাবে ১-০ গোলে হেরেছে পেনাল্টিতে, তবে তারা এখনও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।
 কী বলছে পরিসংখ্যান?
  • দক্ষিণ আমেরিকা বাছাইয়ে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি পাওয়া: ব্রাজিল (৫টি)
  • বলিভিয়ার মাঠে অতীত ফলাফল:
    • ব্রাজিল: ৫ গোল হজম (২০০৯)
    • আর্জেন্টিনা: ৬ গোল হজম (২০০৯)
  • ব্রাজিলের শেষ ম্যাচে পেনাল্টি হজম: ১টি (১ম বার)

সম্পর্কিত

খেলার খবর

জনপ্রিয়


ফুটবল থেকে আরও পড়ুন

ভোজিনিয়া নাকি মার্তিনেজ, কার হাতে উঠবে গোলকিপারদের লড়াইয়ের মুকুট?

স্পেনকে রুখে দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি দেখিয়েছে কেপ ভার্দে। ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে গোলপোস্ট অক্ষত রেখে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন দলটির গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার জনপ্রিয়তা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

ইন্টার মায়ামির অনূর্ধ্ব-১৪ দলে শিরোপা জিতল মেসির বড় ছেলে

আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির বড় ছেলে থিয়াগো মেসি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামির অনূর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে ‘এমআইসি ফুটবল ২০২৬’ টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছে। ফাইনালে গট এফসিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ইন্টার মায়ামির যুবারা।

৪৬ বছর বয়সে অবসর ভেঙে ফুটবলে ফিরলেন রোনালদিনহো

ফুটবলকে বিদায় জানানোর এক দশকেরও বেশি সময় পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদিনহো। ৪৬ বছর বয়সে অবসর ভেঙে ইতালির তৃতীয় বিভাগের ক্লাব রাভেন্নায় যোগ দিয়েছেন সাবেক ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। ফুটবল বিশ্বকে বিস্মিত করা তার এই প্রত্যাবর্তনের খবর জানিয়েছে রয়টার্স।

মেসি-রোনালদোর ইতিহাস, চমক আর নাটকীয়তায় জমে উঠল বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড

রেকর্ড, নাটকীয়তা, চমক আর আবেগঘন মুহূর্তে ভরপুর ছিল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ড। একদিকে যেমন ইতিহাস গড়েছেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, অন্যদিকে নতুন রেকর্ডে বিশ্বকাপকে রাঙিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। পাশাপাশি নরওয়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, মিসরের ঐতিহাসিক জয়, ইরানের লড়াকু মানসিকতা এবং তুরস্কের হতাশাজনক বিদায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।