ফুটবলকে বিদায় জানানোর এক দশকেরও বেশি সময় পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদিনহো। ৪৬ বছর বয়সে অবসর ভেঙে ইতালির তৃতীয় বিভাগের ক্লাব রাভেন্নায় যোগ দিয়েছেন সাবেক ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। ফুটবল বিশ্বকে বিস্মিত করা তার এই প্রত্যাবর্তনের খবর জানিয়েছে রয়টার্স।
২০১৫ সালে ফ্লুমিনেন্সের জার্সিতে সর্বশেষ পেশাদার ফুটবল খেলেছিলেন রোনালদিনহো। এরপর দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকলেও ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসা যে অটুট রয়েছে, সেটিই যেন আবারও প্রমাণ করলেন ব্রাজিলিয়ান এই মহাতারকা।
রাভেন্নায় যোগ দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রোনালদিনহো বলেন, বহু বছরের বন্ধুত্বের সূত্র ধরেই এই সুযোগ এসেছে এবং নতুন এই যাত্রা নিয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার এই সিদ্ধান্ত অন্যদেরও নিজেদের স্বপ্ন পূরণে অনুপ্রাণিত করবে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদিনহো বলেন, “চিপ্রিয়ানি পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক আস্থার কারণেই এই সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা চাই রাভেন্না আরও এগিয়ে যাক এবং ক্লাবটি নতুন সাফল্যের পথে হাঁটুক।”
ইতালির এমিলিয়া-রোমাগনা অঞ্চলের ছোট্ট শহর রাভেন্নার ক্লাবটি সাধারণত আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে খুব বেশি আলোচনায় থাকে না। প্রায় ১২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম নিয়ে সিরি সি-তে খেলা ক্লাবটি রোনালদিনহোর আগমনের পর মুহূর্তেই বৈশ্বিক আলোচনায় উঠে এসেছে।
ক্লাবটির মালিক ইগ্নাজিও চিপ্রিয়ানি ২০২৪ সালে রাভেন্না কিনেছিলেন দলটিকে একদিন ইতালির শীর্ষ লিগ সিরি আ-তে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। তার মতে, রোনালদিনহো শুধু একজন ফুটবলার নন, বরং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় আইকন, যার উপস্থিতি ক্লাবের জনপ্রিয়তা ও পরিচিতি বহুগুণ বাড়াবে।
তবে রোনালদিনহো নিয়মিত মাঠে খেলবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার ভূমিকার একটি বড় অংশ ক্লাবের ব্র্যান্ডিং ও বৈশ্বিক প্রচারণা কার্যক্রম ঘিরেও হতে পারে। যদিও ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাকে নিবন্ধিত খেলোয়াড় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং মাঠে নামার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়নি।
রোনালদিনহো বলেন, “আমি চাই আমার এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলুক। মানুষ যেন অনুপ্রাণিত হয়, নিজেদের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে সাহস পায়। আমিও আমার স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পেরেছি, অন্যরাও যেন সেই সুযোগ পায়।”
উল্লেখ্য, ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা ব্রাজিল জাতীয় দল, বার্সেলোনা, এসি মিলান এবং প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইনের হয়ে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন। ক্যারিয়ারের গোধূলিবেলায় এসে আবারও বুটজোড়া পরে নতুন গল্প লেখার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এখন দেখার বিষয়, রাভেন্নার জার্সিতে মাঠে নেমে তিনি পুরোনো সেই জাদুর কতটা পুনরাবৃত্তি করতে পারেন।










