আন্তর্জাতিক


‘প্রশ্নফাঁসের দায় প্রথম দিন থেকেই নিয়েছি’ আবেগঘন খোলা চিঠি দিয়ে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:২৫ জুলাই ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার

আপডেট:২৫ জুলাই ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার

‘প্রশ্নফাঁসের দায় প্রথম দিন থেকেই নিয়েছি’ আবেগঘন খোলা চিঠি দিয়ে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান

টানা কয়েকদিনের বিক্ষোভ, রাজনৈতিক চাপ এবং নীট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশ করেছেন একটি আবেগঘন খোলা চিঠি। সেখানে তিনি লিখেছেন, “প্রশ্নফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার প্রথম দিন থেকেই আমি এর দায় নিয়েছি। এই সংকট থেকে কখনও মুখ ফিরিয়ে নিইনি।”

 

শনিবার (২৫ জুলাই) প্রকাশিত ওই চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক এবং শিক্ষা সংস্কারের জন্য কাজ করে আসছেন। তার বিশ্বাস, একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থাই একটি উন্নত ও আত্মনির্ভর রাষ্ট্রের ভিত্তি।

 

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ৩ মে অনুষ্ঠিত নীট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর কেন্দ্রীয় সরকার তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-কে। একই সঙ্গে পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে আগামী বছর থেকে নীট-ইউজি পরীক্ষা কম্পিউটার বেসড টেস্ট (CBT) পদ্ধতিতে নেওয়ার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।

 

চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছেন, সরকারের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল ২০ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থীর জন্য একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গত ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

 

তিনি বলেন, “আমার দৃঢ় সংকল্প ছিল কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন যেন পরীক্ষা মাফিয়াদের হাতে নষ্ট না হয়, কোনো শিক্ষার্থী যেন অন্যায়ের শিকার না হয়।” তার দাবি, ১৬ জুলাই প্রকাশিত নীট-ইউজি পরীক্ষার ফলাফল সেই প্রচেষ্টারই প্রতিফলন। দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের অনেক শিক্ষার্থীও এবার সফল হয়েছে।

 

তবে সংকটের সময় কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তারপরও তিনি ভারতের গণতন্ত্রের শক্তির ওপর আস্থা রাখেন এবং দেশের তরুণদের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যতের প্রতি তার বিশ্বাস অটুট রয়েছে।

 

পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। দেশের যুবসমাজ যেন বিভ্রান্তির রাজনীতির শিকার না হয়, রাষ্ট্রবিরোধী কোনো অপশক্তি যেন চলমান পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে এবং কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় আটকে না যায় এসব বিষয় বিবেচনা করেই তিনি প্রধানমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। 

 

চিঠির শেষ অংশে প্রধানমন্ত্রীকে তার দিকনির্দেশনা, আস্থা ও অব্যাহত সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান ধর্মেন্দ্র প্রধান। পাশাপাশি মন্ত্রিসভার সহকর্মী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কর্মজীবনের সকল সহযোগীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

সবশেষে তিনি লেখেন, “দেশসেবাই আমার জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পদে থাকি বা না থাকি, দেশের সেবায় আমার অঙ্গীকার সবসময় অটুট থাকবে।”

 


সম্পর্কিত

আন্তর্জাতিক খবর

জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে আসামের মন্ত্রীর মেয়ে, অস্বস্তিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার

আসামের রাজস্বমন্ত্রী কেশব মহন্তের মেয়ে দিবিসা মহন্ত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ায় রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গুয়াহাটির চাচলে আয়োজিত শিক্ষার্থীদের এক প্রতিবাদ সমাবেশে তাঁর অংশগ্রহণকে ঘিরে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের মধ্যে অস্বস্তির সৃষ্টি হয়েছে।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগেও থামছে না ককরোচদের আন্দোলন, বাকি দুই দাবি পূরণের ঘোষণা

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেছেন, বাকি দুটি দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে।

‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান

ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাগামছাড়া হওয়ার শঙ্কা, সরবরাহ সংকট নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে নতুন অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এত দিন বিভিন্ন সংকট মোকাবিলা করে স্থিতিশীলতা ধরে রাখা বৈশ্বিক তেলবাজার এবার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশ্লেষকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করতে পারে।