হামের টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে বিলম্ব, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন গঠন করেছে সরকার। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দায়িত্ব পালন করা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়-দায়িত্বও খতিয়ে দেখবে এই কমিশন।
এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
কমিশনের সভাপতি করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি মামনুন রহমানকে। অন্য দুই সদস্য হলেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম মঈনুল ইসলাম।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, হামের টিকা ক্রয় ও বিতরণ কার্যক্রমে কেন বিলম্ব হয়েছে, এতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রশাসনিক ব্যর্থতা ছিল কি না এবং এসব ঘটনার জন্য কারা দায়ী, তা তদন্ত করে চিহ্নিত করবে কমিশন।
পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করবে কমিশন। এ ছাড়া তদন্তের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েও সুপারিশ দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে তাদের।
তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় কমিশনকে বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। দেশের যেকোনো স্থানে পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তলব এবং জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে কমিশন। প্রজ্ঞাপন জারির দিন থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
কমিশনের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সাচিবিক ও অন্যান্য সহযোগিতা দেবে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। তদন্তের ব্যয় নির্বাহ এবং কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তার জন্য স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ বা এর অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয়সংখ্যক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
এদিকে, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে বিশেষ করে শিশুদের আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৪৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় ১০৫ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হওয়ার পর তাদের মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫৪ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলমান প্রাদুর্ভাবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে বিলম্ব এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিশনের প্রতিবেদনে সংকটের কারণ ও সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।








