তুরাগ নদ থেকে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের মাত্র নয় দিন আগে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক অভিযানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন তাঁর বোন কে এম সাওয়াফা সিলভি (২৬)।

রাজধানীর ভাটারা এলাকায় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন একটি বাসায় ডিবি অভিযান চালায়। ওই অভিযানে ৮৫ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের তালিকায় প্রথম নাম ছিল সাওয়াফার। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের ডোপ টেস্ট বা রাসায়নিক পরীক্ষা ছাড়াই সাজা দেওয়া হয়েছিল। ওই অভিযানে ২৬ নারীকে ১৫ দিন এবং ৫৯ পুরুষকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পেশাদার বাদ্যযন্ত্রশিল্পীও ছিলেন।

এদিকে রাজধানীর উত্তরা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল হত্যা মামলা করেন।

অন্যদিকে, ব্যক্তিগত বাসভবন অপব্যবহারের সুযোগ দেওয়া এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁকে রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুলে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ১০১ জন বিশিষ্ট নাগরিক যৌথ বিবৃতিতে ডিবির অভিযান ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। ইতিমধ্যে সাওয়াফাসহ কয়েকজন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।